পিচে থাকলে রান আসবেই! মুকুলের মন্তব্যের প্রমাণ কুণাল-ঋতব্রত

কলকাতা: পিছনের সারি থেকে শিরোনামে।  হারিয়ে যেতে যেতেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।  লড়াইয়ে আছেন। ইতিহাসে নিজের পাকা করে ফেলেছেন। আলোচিত ব্যক্তি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং ঋতব্রত…

mukul-roy-pitch-e-thakle-run-kunal-ghosh-ritabrata-banerjee-political-journey

কলকাতা: পিছনের সারি থেকে শিরোনামে।  হারিয়ে যেতে যেতেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।  লড়াইয়ে আছেন। ইতিহাসে নিজের পাকা করে ফেলেছেন। আলোচিত ব্যক্তি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের লড়াইয়ের সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে মুকুল রায়ের সেই মন্তব্য, ‘পিচে থাকলে রান আসবেই।’

Advertisements

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তলবের পর থেকেই মমতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় মুকুলের। শোনা যায়, নিজের পিঠ বাঁচাতে সারদা মামলায় সিবিআইয়ের সামনে নেত্রীর নাম বলে দিয়েছিলেন মুকুল। পরপর তৃণমূলের তাবড় নেতারা গ্রেফতার হলেও কাঁচরাপাড়ার কাঁচা ছেলেকে সেই পথে যেতে হয়নি। সেই কারণেই এই জল্পনা ছড়ায়। সেই ২০১৪-১৫ থেকেই ঘাসফুলের মঞ্চে দেখা যায়নি। ২০১৭ সালে তৃণমূল ত্যাগ করেন মুকুল রায়। সেই সময় সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন, ‘পিচে থাকলে রান আসবেই।’ সেই পিচ বিজেপির কিনা তা তখনই স্পষ্ট করেননি মুকুল। পরে বিজেপির পিচে চালিয়ে খেলেছেন। ২০১৯ সালে ঘাসফুলকে ঝটকা দিয়েছেন। একুশে আবার ছন্দপতন।

   

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, রিয়াদে হুথি ড্রোন হামলা

ক্রিকেটপ্রেমী মুকুল রায়ের সেই মন্তব্য মিলে যাচ্ছে বর্তমান সময়ের দুই রাজনীতিবিদের জীবনযাত্রায়। এরমধ্যে একজন কুণাল ঘোষ। সারদা কাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর জেলমুক্তির পরপরই মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়েন। শোনা যায়, কুণালকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ কুণাল সেই পথে হাঁটেননি। ঘাসফুলের মধ্যে থেকেই নিজের জমি শক্ত করেছেন। নানা ধাপ পেরিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। মুখপাত্রর দায়িত্ব সামলেছেন। অনেক বিতর্কের পর আজ তিনি বেলেঘাটার বিধায়ক। মমতা-অভিষেকের আস্থাভাজন। সারদা কেলেঙ্কারির সময় মমতার বিরুদ্ধে মুখ খোলায় অনেক তৃণমূলকর্মীর রোষের মুখে পড়েছিলেন। এখন সেই কর্মীদের কাছে কুণাল ঘোষ মানে সোনা। পিচে পরে থেকে সাফল্য পেয়েছেন কুণাল। ঠিক যেমনটা বলেছিলেন মুকুল রায়।

Advertisements

আরও পড়ুন: ‘পুলিশের মদতেই সব হচ্ছে!’ কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণে গর্জে উঠলেন মমতা

কুণাল ঘোষের মতোই আরেকজন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে রাজ্যের অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা। ঘাসফুলের তৃণমূল ভাঙানোর কাণ্ডারি। দিনরাত তাঁকে আক্রমণ করে চলেন কুণাল ঘোষ। সেই ঋতব্রতর সঙ্গেও কুণালের বিস্তর মিল। মুকুল রায়ের মতো তিনিও পিচ ছাড়েননি।

বাম ছাত্র রাজনীতি করে উত্থান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রিয়পাত্র। সেই সুবাদে অনেক ধাপ পেরিয়ে বলা ভালো স্টেপ জাম্প করে পৌঁছেছিলেন রাজ্যসভায়। পরে দল তাঁকে বহিষ্কার করে। শোনা যায়, এই সিপিএম নেতার কেচ্ছা ফাঁস করেছিল দলেরই একাংশ। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়। দল তাড়ালেও সাংসদ পদ ছাড়েননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আড়ালে থাকলেও রাজনীতির মঞ্চও ছাড়েননি।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের পর কুণাল ঘোষের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল ঋতব্রতকে। তারপর ঘাসফুলের পতাকাতলে আসেন তিনি। সেখান থেকে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের মাথায়। কয়েক বছরের মধ্যে আবার রাজ্যসভায়। সৌজন্যে মমতা-অভিষেক। ঋতব্রতর এইসব কর্মকাণ্ড সেভাবে প্রচারে আসেনি। কারণ সব আলো কেড়েছিলেন মমতা-অভিষেক। ছাব্বিশের ভোটে ঘাসফুলের ভরাডুবি হলেও সেই প্রতীকে জিতে বিধানসভার সদস্য হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটজাত পণ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ মোদী সরকারের

এই পর্যন্ত আহামরি কিছুই হয়নি। কিন্তু দুঁদে রাজনীতিবিদ এরপর খেলা ঘুরিয়ে দিলেন। তৃণমূল ভাঙলেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আসনও পেলেন। যেন দীর্ঘসময় পিচে থেকে অপেক্ষা করছিলেন। সুযোগ পেয়েই চালিয়ে খেলা শুরু করেছেন।

কুণাল-ঋতব্রত দ্বন্দ্ব আছে। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চলছে। কোথাও যেন মুকুল রায় সব দেখছেন। তাঁর দেখানো পথেই যেন চলছেন যুযুধান দুই নেতা।

Advertisements