কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্প অঞ্চলের (mobility blueprint)জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ পরিকল্পনা তৈরি করছে। আগামী ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যানবাহনের চাপ মাথায় রেখে এই মোবিলিটি ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত হচ্ছে। এতে উঁচু করিডোর, ফ্লাইওভার, মেট্রো সংযোগ এবং সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে স্টীল অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আইআইএসসিও প্ল্যান্টে চল্লিশ হাজার কোটি টাকার আধুনিকীকরণ কাজ চলছে।
এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পরিকাঠামোর ওপর চাপ বাড়বে বলেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বার্নপুরে দামোদর নদের ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ(mobility blueprint)। এই সেতু পশ্চিম বর্ধমানকে সরাসরি বাঁকুড়ার সঙ্গে যুক্ত করবে এবং পরোক্ষভাবে পুরুলিয়ার সঙ্গেও সংযোগ তৈরি করবে। কালিপাহাড়ির সঙ্গে বার্নপুরের সংযোগ সড়কও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও দেখুনঃ ফের বড় ৩ ঘোষণায় আলোচনায় শুভেন্দু! মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক হল ‘বন্দে মাতরম’
কালিপাহাড়ি থেকে দামোদর পর্যন্ত একটি উঁচু করিডোর তৈরি হবে। কোর্ট মোর, মহিষিলা এবং বিএনআর-এ র্যাম্প থাকবে যাতে স্থানীয় যান চলাচল সহজ হয়। রাইটস ইতিমধ্যে এই প্রকল্পগুলির সমীক্ষা করেছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো নেটওয়ার্কও এই পরিকল্পনার অংশ। দুই শিল্পনগরীর মধ্যে দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই মেট্রো পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সড়ক ও রেলপথে যাতায়াতের সময় বেশি লাগে এবং যানজটও প্রকট। মেট্রো চালু হলে যাতায়াতের সময় কমবে এবং শিল্প অঞ্চলের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়বে। (mobility blueprint)রাজ্য সরকার এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাইটসকে সমীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে।এই সামগ্রিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হল আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্প বেল্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। নতুন শিল্প আনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা জরুরি।
দামোদর সেতু নির্মিত হলে তিন জেলার মধ্যে অর্থনৈতিক ও পর্যটন সংযোগ বাড়বে। উঁচু করিডোর ও ফ্লাইওভার যানজট কমাবে। মেট্রো পরিষেবা জনসাধারণের জন্য আধুনিক গণপরিবহনের সুযোগ তৈরি করবে। সামগ্রিকভাবে এই নেটওয়ার্ক শিল্প, বাণিজ্য ও নগর জীবনের মান উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সম্প্রতি আসানসোল-দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সঙ্গে বৈঠক করে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানো যায়। সাইলের আধুনিকীকরণের ফলে নতুন কর্মীরা এখানে বসতি গড়বেন। সেই চাপ সামলাতে এখন থেকেই পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
