নয়াদিল্লি: ভারত, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটজাত পণ্যের ওপর এখন (anti-dumping duty)পর্যন্ত সর্বোচ্চ হারের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নোটিফিকেশনে পাট সুতা, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তা তৈরির পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট উৎপাদকের জন্য শূন্য শুল্ক রাখা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশি পাট রফতানিকারকদের (anti-dumping duty)ভারতীয় বাজারে প্রবেশ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।এই সিদ্ধান্ত এসেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আরোপিত পাঁচ বছরের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এই সংশোধন কার্যকর হবে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে কম দামে পাট পণ্য আমদানি হওয়ায় দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ বিষমদ কাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, SIT গঠন করে তদন্ত শুরু
দাম কাটছাঁটের কারণে ভারতের পাটকল ও কৃষকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তাই অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা। পাট ও পাটজাত পণ্য দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রফতানি খাত। ভারত একসময় এই পণ্যের অন্যতম বড় বাজার ছিল। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের পর রফতানি কমেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও রফতানির পরিমাণ আরও কমেছে। (anti-dumping duty)এখন নতুন ও উচ্চতর শুল্ক আরোপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। অনেক মিল মালিক আশঙ্কা করছেন, ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং রফতানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।অন্যদিকে ভারতের পাট শিল্পের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক খবর। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের পাটকল ও কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সস্তা আমদানির চাপে ছিলেন।
নতুন শুল্ক কাঠামো দেশীয় উৎপাদনকে রক্ষা করবে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় পাটকল মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছেন, ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন।দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে পাট খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একপক্ষের সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্য পক্ষের জন্য চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশি রফতানিকারকরা এখন বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য হতে পারেন। একইসঙ্গে মান ও মূল্য প্রতিযোগিতায় আরও মনোযোগী হতে হবে। ভারতও তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।
