তেহেরান: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে ড্রোন পাঠিয়েছে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ট্রাম্প শনিবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলতে চায়, কারণ মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
কী ছিল ইরানের প্রস্তাবে?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে পারে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থাকা নৌ অবরোধ তুলে নিতে পারে।
ইরান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেছে এবং পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করার পথ তৈরি হতে পারে।
এর আগে জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। সেই সমঝোতার পর সাময়িক যুদ্ধবিরতি তৈরি হলেও কয়েক সপ্তাহ পর তা ভেঙে যায়। নতুন প্রস্তাবটি সেই আগের উদ্যোগের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Read More: ‘পুলিশের মদতেই সব হচ্ছে!’ কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণে গর্জে উঠলেন মমতা
রিয়াদের দিকে হুথিদের ড্রোন
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথিদের পাঠানো দুটি ড্রোন রিয়াদের দিকে এগিয়ে আসছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলি প্রতিহত করেছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তের খামিস মুশাইতের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়েছিল বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। সৌদি নাগরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ আবহা এবং জাজান এলাকাতেও সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল। এর আগে এক সপ্তাহ আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিলের সংঘাতের তীব্র পর্যায়ের পর সেটিই ছিল সৌদি রাজধানীর ক্ষেত্রে এমন সতর্কতার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
Read More: বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটজাত পণ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ মোদী সরকারের
নভেম্বরের পর ফের হামলার ইঙ্গিত?
এদিকে মার্কিন নীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বোমা হামলা আবার শুরু করার সম্ভাবনা দেখছেন। একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ট্রাম্পের দাবিগুলি মেনে চলবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। তবে শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার বোমা হামলা শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেননি।ফলে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কোন দিকে যায়, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই পথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বাণিজ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা নিয়ে যে কোনও সমঝোতা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রণালী খোলার সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যও জড়িয়ে রয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অনড় তেহরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধ বজায় থাকলে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচলের সুযোগ দেবে না। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের অধিকারও ইরান ছাড়বে না বলে তিনি জানিয়েছেন। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই।
ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা, মার্কিন অবরোধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইয়েমেনের হুথিদের সামরিক তৎপরতা, সবকটি বিষয় এখন একই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও শনিবার ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যে সেই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
