নয়াদিল্লি: আরব সাগরে বড়সড় সামুদ্রিক সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল দুই দেশের নৌসেনা। উত্তর আরব সাগরে রুটিন নজরদারির সময়ে ভারতের সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস কলকাতা’ (INS Kolkata)-কে ধাওয়া করতে গিয়ে উলটে মারাত্মক বিপদে পড়ল পাকিস্তানের অফশোর পেট্রোল ভেসেল ‘পিএনএস হুনাইন’ (PNS Hunain)। প্রায় ৭,৪০০ টন ওজনের ভারতীয় দানবীয় যুদ্ধজাহাজের সামনে মাত্র ২,৬০০ টনের পাক জাহাজটির এই ধৃষ্টতাকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সংঘর্ষে পাক জাহাজের সামনের অংশে বড়সড় ফাটল ও ডেন্ট ধরলেও, সামান্য আঁচড়ও লাগেনি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের।
ভারতের মহাকায় যুদ্ধজাহাজ বনাম পাক প্যাট্রোল ভেসেল
বিশ্লেষকদের মতে, দুই যুদ্ধজাহাজের ক্ষমতার মধ্যে আসমান-জমিন ফারাক রয়েছে। আইএনএস কলকাতা হলো ভারতের অন্যতম শক্তিশালী গাইডেনাইল মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা সুপারসনিক ব্রহ্মোস মিসাইল, শক্তিশালী রাডার এবং মাল্টি-ডাইমেনশনাল কমব্যাট সিস্টেমে সজ্জিত। অন্যদিকে, পিএনএস হুনাইন মূলত মেরিটাইম সিকিউরিটি বা নজরদারির জন্য তৈরি একটি সাধারণ পেট্রোল ভেসেল, যার যুদ্ধক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। পাক নৌসেনার ‘সি স্পার্ক’ (Sea Spark) মহড়ার অংশ হিসেবে আরব সাগরে উপস্থিত থেকে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটিকে উত্যক্ত করার চেষ্টা করছিল হুনাইন। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে একটি বিপজ্জনক ক্লোজ-রেঞ্জ ম্যানুভার বা কৌশল নিতে গিয়েই আইএনএস কলকাতার গায়ে সজোরে ধাক্কা খায় পাক জাহাজটি।
কূটনৈতিক তলব ও পাকিস্তানের পুরোনো স্বভাব
এই সংঘর্ষের জেরে দুই দেশই একে অপরের কূটনীতিকদের তলব করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ওএসআইএনটি (OSINT) সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই আকস্মিক সংঘর্ষে অন্তত চারজন পাকিস্তানি নৌকর্মী আহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিত্থান মন্তব্য করেছেন যে, আইএনএস কলকাতা যদি সামান্যতম আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিত, তবে পাক জাহাজটি মুহূর্তের মধ্যে সমুদ্রে ডুবে যেত। প্রসঙ্গত, এর আগেও ২০১১ সালে এডেন উপসাগরে পাক যুদ্ধজাহাজ পিএনএস বাবর এভাবেই ভারতের আইএনএস গোদাবরীর গায়ে ধাক্কা মেরেছিল। বারবার সতর্ক করার পরেও পাকিস্তানের এই অপরিপক্ব ও বিপজ্জনক উস্কানিমূলক আচরণ ফের আন্তর্জাতিক জলসীমায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আসছে ‘গডজিলা এল নিনো’! শীতে কি তবে উধাও হবে সোয়েটার?
মহাকাশে অস্ত্র চালনার যুগ শুরু: শত্রুর স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে কতটা প্রস্তুত ভারত?
