নয়াদিল্লি: আধুনিক যুদ্ধের নতুন ময়দান হিসেবে এবার মহাকাশকে বেছে নিল মহাশক্তিধর দেশগুলি। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো মহাশূন্যে অরবিটিং বা কক্ষপথে ঘুরতে সক্ষম ‘স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রক অস্ত্র মোতায়েনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে আমেরিকা। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই মহাকাশ সামরিক নজরদারি বা যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে থাকলেও, এই প্রথম কোনো দেশ সরাসরি মহাকাশে অস্ত্র স্থাপনের কথা কবুল করল। রাশিয়া ও চিনও সমজাতীয় অস্ত্র তৈরিতে তৎপর হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন ‘স্টার ওয়ারস’ বা মহাকাশ যুদ্ধের যুগে দাঁড়িয়ে ভারতের ভূমিকা ঠিক কী এবং দিল্লির হাতে কি শত্রুর উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ধ্বংস করার মতো প্রযুক্তি রয়েছে?
এস্যাট (ASAT) অস্ত্র ও ভারতের ‘মিশন শক্তি’র সফলতা
শত্রুর স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে সক্ষম এই অস্ত্রগুলিকে সম্মিলিতভাবে ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ওয়েপন’ বা এস্যাট (ASAT) বলা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো কাইনেটিক ডিরেক্ট-অ্যাসেন্ট (Kinetic direct-ascent) মিসাইল, যা অত্যন্ত উচ্চ গতিতে সরাসরি আঘাত করে মহাকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় হাতে গোনা কয়েকটি দেশেরই এই সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত। ২০১৯ সালে ‘মিশন শক্তি’ (Mission Shakti) সফলভাবে সম্পন্ন করে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করেছিল ভারত। ওড়িশার ডব্লিউ জে কালাম দ্বীপ থেকে ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এস্যাট মিসাইল ব্যবহার করে নিম্ন কক্ষপথে (LEO) ভারতের নিজস্ব একটি মৃত স্যাটেলাইটকে নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস করা হয়েছিল।
২. ভারতের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও মহাকাশ কূটনীতি
যদিও ২০১৯ সালের পর থেকে ভারত স্পেস ডিভ্রিজ বা মহাজাগতিক আবর্জনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় এমন আর কোনো পরীক্ষা চালায়নি, তবুও ‘মিশন শক্তি’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে মহাকাশ যুদ্ধের পরিস্থিতিতে শত্রুর স্যাটেলাইট নিকেশ করার প্রযুক্তি ও আত্মরক্ষার পূর্ণ ক্ষমতা ভারতের হাতে রয়েছে। তবে মার্কিন পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া ও চিন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মহাকাশের সামরিকীকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এর জেরে বিশ্বজুড়ে মহাশূন্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার এক বিপজ্জনক মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, যার দিকে গভীর নজর রাখছে নয়াদিল্লিও।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
