নয়াদিল্লি: দিল্লিতে সংসদের দিকে মার্চের সময় যে হিংসা হয়েছে, তার তদন্ত (Delhi Parliament)এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। দিল্লি পুলিশের তদন্তকারীরা এখন এটাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন, শুধুমাত্র স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বলে নয়। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার তদন্তের মতোই এবারও ঘটনার অনেক পরে মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সময় উমর খালিদকে দাঙ্গার সাত মাস পর গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এবারও সেই একই প্যাটার্ন দেখে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ডেটা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিটি এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খুঁটিয়ে দেখছেন। তাঁদের লক্ষ্য হল, হিংসা কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল, কারা পেছন থেকে সমন্বয় করেছিল এবং কোন কোন গোষ্ঠী এতে জড়িত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ২০টি সংগঠনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ হরিয়ানায় ২০ বছর ধরে পুরোহিতের ছদ্মবেশে স্লিপার সেল! জানাজানি হতেই গা ঢাকা ওয়াকিলের
এর মধ্যে ছাত্র সংগঠন, (Delhi Parliament)রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ রয়েছে।তদন্তকারীরা বিশেষভাবে দেখছেন বিদেশি যোগসূত্র এবং অর্থের উৎস। কোনো বিদেশি ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে কি সমন্বিতভাবে লোকজনকে জড়ো করা হয়েছিল? মোবাইল ডেটা এবং হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম চ্যাট থেকে কোনো সমন্বয়ের প্রমাণ মিলছে কি না এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
ঘটনার পর থেকেই দিল্লিতে বেড়েছিল উত্তেজনা। বিরোধী দলগুলো পুলিশের তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে। তাঁরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে হিংসা ছড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দিল্লির রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও, রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত।
আরও দেখুনঃ ট্রেনের ধাক্কায় হাতিমৃত্যু বন্ধ করতে মোদী সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প ‘গজরাজ’
উমর খালিদের (Delhi Parliament)উদাহরণ অনেককে চিন্তিত করেছে। দিল্লি দাঙ্গায় তাঁকে পরে গ্রেফতার করা হয় এবং মামলা এখনও চলছে। এবারও যদি একই প্যাটার্ন অনুসরণ করা হয়, তাহলে অনেক ছাত্রনেতা ও অ্যাকটিভিস্ট দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। আইনজীবীরা বলছেন, ডিজিটাল প্রমাণ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিঙ্গেল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা টাকার লেনদেন পুরো ছবি বদলে দিতে পারে।
তদন্ত এখন কোন দিকে যাবে? পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে কয়েকজন মূল সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভবত গ্রেফতার। বিদেশি ফান্ডিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক স্তরেও তদন্তের দরজা খুলতে পারে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে নজর রাখছে। তারা বলছে, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ হয় এবং কোনো নিরপরাধ যেন না ফেঁসে যায়।
