ট্রেনের ধাক্কায় হাতিমৃত্যু বন্ধ করতে মোদী সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প ‘গজরাজ’

নয়াদিল্লি: প্রতি বছর ভারতের রেলপথে গড়ে ৫০ থেকে ৭০টি হাতি মারা যেত (Gajraj)। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে জঙ্গল পেরিয়ে রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সঙ্গে…

gajraj-ai-project

নয়াদিল্লি: প্রতি বছর ভারতের রেলপথে গড়ে ৫০ থেকে ৭০টি হাতি মারা যেত (Gajraj)। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে জঙ্গল পেরিয়ে রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত। অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন প্রদেশের ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলা রেলপথগুলোতে এই সমস্যা ছিল সবচেয়ে প্রকট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।

Advertisements

ভারতীয় রেলওয়ে নীরবে এক অভিনব প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেছে। নাম ‘গজরাজ’।গজরাজ কোনো বড় পরিকাঠামো প্রকল্প নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক একটি স্মার্ট সিস্টেম। রেললাইনের নিচে যেসব ফাইবার-অপটিক কেবল ইতিমধ্যেই পাতা ছিল, সেগুলোকেই ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি কাজ করে। হাতির পায়ের চাপে সৃষ্ট কম্পন বা ভাইব্রেশন এই কেবলগুলোতে ধরা পড়ে।

   

আরও দেখুনঃ দীর্ঘ ৬ বছর পর ফের নাথুলা দিয়ে চালু হল ভারত-চিন বাণিজ্য

এআই অ্যালগরিদম তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করে যে এটি হাতির চলাচল। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের চালক এবং নিকটবর্তী স্টেশন মাস্টারের কাছে অ্যালার্ট চলে যায়। চালক গতি কমিয়ে দেন বা প্রয়োজনে থামিয়ে দেন। ফলে ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হয়।যেসব রুটে গজরাজ ব্যবহার শুরু হয়েছে, সেখানে ফলাফল চোখে পড়ার মতো।

Advertisements

হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু হাতিদের জীবনই বাঁচাচ্ছে না, রেলের নিরাপত্তাও বাড়াচ্ছে। অনেক সময় ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনও রক্ষা পাচ্ছে।গজরাজ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব দিক। নতুন করে বড় কোনো নির্মাণ, বন কাটা বা বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়নি।

আরও দেখুনঃ ৬৫০০০ মাইনে- আমেরিকার খরচ বহন করতেন কি করে? অভিযোগ অভিজিতের বাবার বিরুদ্ধে

পুরোনো পরিকাঠামোকেই স্মার্টভাবে ব্যবহার করেই সমাধান খুঁজে বের করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।অসমের হাতি-ঘন এলাকায় প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর এখন অন্যান্য রাজ্যেও ধীরে ধীরে এই সিস্টেম ছড়িয়ে পড়ছে।

Advertisements