হরিয়ানায় ২০ বছর ধরে পুরোহিতের ছদ্মবেশে স্লিপার সেল! জানাজানি হতেই গা ঢাকা ওয়াকিলের

হরিয়ানা: হরিয়ানার করনালে কর্ণেশ্বর মহাদেব মন্দিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। (Haryana)হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, ওয়াকিল নামে এক মুসলিম যুবক প্রায় ২০ বছর ধরে হিন্দু পরিচয়ে…

haryana-temple-priest-row

হরিয়ানা: হরিয়ানার করনালে কর্ণেশ্বর মহাদেব মন্দিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। (Haryana)হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, ওয়াকিল নামে এক মুসলিম যুবক প্রায় ২০ বছর ধরে হিন্দু পরিচয়ে মন্দিরে পুরোহিতের কাজ করছিলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার মন্দির চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদ করেন এবং পুলিশকে ডাকতে হয়।

Advertisements

সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, ওয়াকিল মন্দির চত্বরেই পরিবার নিয়ে থাকতেন এবং মন্দির কমিটির কাছ থেকে বেতন নিতেন। (Haryana)তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এত বছর ধরে কোনো পরিচয় যাচাই ছাড়াই তাঁকে মন্দিরের ধর্মীয় কাজে যুক্ত রাখা হল। কেউ কেউ এটাকে ‘স্লিপার সেল ’ বা অনুপ্রবেশের অংশ বলেও উল্লেখ করেছেন।

   

আরও দেখুনঃ ‘মাদকাসক্তি লুকিয়ে রাখবেন না!’ জেন-জি’দের পথে আনতে নয়া বার্তা মোদীর

প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াকিল মন্দিরের ভিতরেই কোথাও লুকিয়ে আছেন।অন্যদিকে মন্দিরের মুখ্য পুরোহিত ষষ্ঠী বল্লভ পাণ্ডে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াকিল কুটেল গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি শুধুমাত্র মন্দিরের সাফসাফাইয়ের কাজ করতেন। তিনি কখনোই পুরোহিত বা পূজা-পাঠের দায়িত্বে ছিলেন না। মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।

Advertisements

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনও উত্তেজনা শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।এই ঘটনা ধর্মীয় স্থানে পরিচয় যাচাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তুলে ধরেছে। হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করছে, মন্দিরগুলোতে কর্মী নিয়োগের সময় কঠোরভাবে পরিচয়পত্র যাচাই করা উচিত।

অনেকে বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করে এবং সমাজে অশান্তি ছড়ায়। (Haryana)অন্যদিকে কিছু সমাজকর্মী মনে করেন, অভিযোগ উঠলেই কাউকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে। ধর্মীয় স্থানগুলো যাতে কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।করনালের এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও দেখুনঃ “বোস্টনে পালিয়ে যাও, নয়তো আদালতে জবাব দাও!” আরশোলাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামল দিল্লি পুলিশের অফিসাররা

অনেকে এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললেও, কেউ কেউ এর পেছনে বড় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। হিন্দু সংগঠনগুলো মন্দির কমিটির কাছে জবাবদিহি চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য কঠোর নির্দেশিকা চেয়েছে।মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী যদি ওয়াকিল শুধু সাফাইকর্মী হন, তাহলে বিষয়টি সহজেই মিটে যেতে পারে। কিন্তু যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে, তাহলে এটি মন্দির ব্যবস্থাপনার বড় ত্রুটি হিসেবে দেখা হবে। পুলিশের তদন্তের ওপর এখন সবার নজর।

Advertisements