৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবল মহলেও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার সুনীল ছেত্রীকে (Sunil Chhetri) কি এই ম্যাচে আরও একবার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে? ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অন্দরে এমন সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় দলের প্রধান কোচ খালিদ জামিলের সঙ্গে এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেডারেশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুনীল ছেত্রীর দীর্ঘদিনের অবদানকে সম্মান জানাতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামানোর চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে কোচ খালিদ জামিলের সম্মতির উপর।
সুনীল ছেত্রী ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের ফুটবলের মুখ হয়ে থেকেছেন। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের পরিচিতি বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। তাই ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচে তাঁকে সম্মান জানানোর ইচ্ছা ফেডারেশন কর্তাদের কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে।
Read More: খালি পায়ে ইতিহাস, ১১৫ বছর পরেও অমর মোহনবাগান দিবসের গৌরব
এর আগে ইগর স্টিমাচ জাতীয় দলের কোচ থাকাকালীন বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব চলাকালীন সুনীল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে মানোলো মার্কেজ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির প্রয়োজনে আবারও সুনীলকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলের একাংশে সমালোচনাও হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়াই উচিত।
এরপর খালিদ জামিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সুনীল নিজেই কোচকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর পরিবর্তে তরুণ স্ট্রাইকারদের সুযোগ দেওয়া হোক। সেই কারণেই তিনি আর জাতীয় দলে ফেরেননি। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি নতুন করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেননি। এই বিষয়টিকেই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন ফেডারেশনের কর্তারা। তাঁদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে অবসর ঘোষণা না করায় প্রয়োজন হলে তাঁকে আবারও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করতে কোনও নিয়মগত বাধা নেই।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ ভারতের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারিতে থাকা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও খেলেনি ভারত। তাই ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহও তুঙ্গে। যদিও এটি একটি প্রীতি ম্যাচ, তবুও ব্রাজিল তাদের শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামতে পারে বলে খবর। বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নেইমার অবসর নেওয়ায় তাঁকে দেখা যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে দলের অন্য তারকা ফুটবলারদের কলকাতায় খেলতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতের জন্য ম্যাচটি কঠিন হতে পারে। ফল যাই হোক, এই ম্যাচ দেশের ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ। সেই মঞ্চে সুনীল ছেত্রীকে আরও একবার নীল জার্সিতে দেখা গেলে তা শুধু সমর্থকদের কাছেই নয়, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসেও বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
এখন সব নজর খালিদ জামিল এবং ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। যদি সবুজ সংকেত মেলে, তাহলে ৩ অক্টোবর কলকাতার দর্শকরা হয়তো শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে সুনীল ছেত্রীকে মাঠে নামতে দেখবেন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সেই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলের এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
