ব্রিটেনের উইলফোর্ড এলাকায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত সন্দেহজনক ঘটনায় আতঙ্ক (Bomb Scare) ছড়াল। বেশ কয়েকটি বাড়ি খালি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর এলাকায় বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলকেও ডাকা হয়েছে।
একাধিক গাড়ি পরীক্ষা করছে সেনার বিশেষ দল
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পরীক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল বা ইওডি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এই ধরনের দল সাধারণত সন্দেহজনক বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু শনাক্ত, পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও নির্দিষ্ট গাড়িতে বোমা বা বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছে কি না, তা জানায়নি। ফলে ঘটনাস্থলে সেনা দলের উপস্থিতিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, রিয়াদে হুথি ড্রোন হামলা
RAF ফেয়ারফোর্ডের কাছাকাছি এলাকায় অভিযান
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। ঘটনাস্থলের কাছে জরুরি পরিষেবার একাধিক গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। ফেয়ারফোর্ড ইয়ুথ ফুটবল ক্লাবের কাছেও জরুরি পরিষেবার যানবাহন দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্রিটিশ সামরিক পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তাই ঘাঁটির আশপাশে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটলে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া স্বাভাবিক।
বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া
ঘটনার পর স্থানীয় বেশ কয়েকটি সম্পত্তি বা বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। বাসিন্দাদের কাছের একটি লেজার সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের চারপাশে পুলিশ কর্ডন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মনে করছে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে তদন্ত এবং নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় বিধিনিষেধ বজায় থাকবে।
‘সন্ত্রাসী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে!’ রাষ্ট্রসংঘে পাক সাংবাদিককে মোক্ষম জবাব জয়শংকরের
জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে পুলিশ
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি ও জরুরি পরিষেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য বিস্ফোরক সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বর্তমানে তদন্তের মূল বিষয় হল, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্ফোরক আইনের সম্ভাব্য অপরাধের কী সম্পর্ক রয়েছে এবং যে গাড়িগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে সেগুলিতে কোনও বিপজ্জনক বস্তু রয়েছে কি না।
গ্রেফতার কয়েকজন, তদন্ত অব্যাহত
বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে বা তাঁদের কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং এলাকায় থাকা গাড়িগুলির বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রাখা এবং সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে সন্দেহজনক গাড়িগুলি পরীক্ষা করা। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা অংশীদার সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতা ও বিধিনিষেধ বজায় থাকবে।
