কলকাতা: নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ফর্ম ৬ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর চলছে না, সেখানে নতুন করে ভোটার হওয়ার আবেদনকারীদের আর আগের এসআইআরের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের বা পরিবারের সদস্যের নামের ম্যাপিং সংক্রান্ত ঘোষণা জমা দিতে হবে না।
শনিবার নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর না চলা এলাকাগুলিতে নতুন ভোটারদের জন্য রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রযোজ্য ফর্মই ব্যবহার করা হবে। তবে যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে এসআইআর চলছে, সেখানে নিয়মটি আলাদা থাকবে। ওই সব জায়গায় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘোষণা জমা দেওয়া এখনও বাধ্যতামূলক।
এসআইআর চললে কী তথ্য দিতে হবে
এসআইআর চলা এলাকায় নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে গেলে আবেদনকারীকে নিজের অথবা কোনও আত্মীয়ের আগের এসআইআর ভোটার তালিকার তথ্য দিতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর বাবা, মা এবং স্বামীর বা স্ত্রীর নাম এবং তাঁদের ইপিআইসি নম্বর, যদি তা পাওয়া যায়, সেই তথ্যও ঘোষণায় উল্লেখ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের অংশ হিসেবে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যে ঘোষণা সংযুক্ত করা হয়েছে, সেই ব্যবস্থাকে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। তাই বর্তমানে এসআইআর চলা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ঘোষণা ব্যবস্থাটি কার্যকর থাকবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, রিয়াদে হুথি ড্রোন হামলা
এসআইআর নেই এমন জায়গায় পুরনো নিয়ম
কমিশনের নতুন ব্যাখ্যার ফলে এসআইআর না চলা এলাকাগুলিতে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবস্থাটি কার্যত এসআইআরের আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে। অর্থাৎ সেখানে আবেদনকারীদের এসআইআরের পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের বা আত্মীয়ের নাম মিলিয়ে দেখানোর জন্য আলাদা ঘোষণা দিতে হবে না। এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেই সব রাজ্যের ক্ষেত্রে, যেখানে বর্তমানে এসআইআর চলছে না এবং আগামী সময়ে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এসআইআর সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কেন
নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘোষণা যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও মতপার্থক্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু এবং বিবেক জোশি যথাক্রমে মে ও অগস্টে অভ্যন্তরীণ নোটে ফর্ম ৬ পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে মতামত জানিয়েছিলেন। বিরোধী দলগুলিও ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, এসআইআরের তিনটি পর্যায়ের নির্দেশই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদন পেয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিহারে প্রথম পর্যায়ের এসআইআরের জন্য ২৪ জুন ২০২৫-এ নির্দেশ জারি করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৫ এবং তৃতীয় পর্যায়ের জন্য ১৪ মে ২০২৬-এ নির্দেশ জারি করা হয়। কমিশন আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মুসলিম ল অনুসারে বিয়ে হলেও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গে POCSO! রায় দিল্লি হাইকোর্টের
বিহারের নিয়ম থেকে কীভাবে বদলেছে ঘোষণা
ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাটিও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। বিহারে ২০২৫ সালের প্রথম এসআইআরের সময় নতুন ভোটারদের নিজের বা বাবা-মায়ের জন্মতারিখ এবং জন্মস্থান ঘোষণা করতে বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট তালিকায় থাকা নথির মাধ্যমে তার প্রমাণ দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
পরবর্তী পর্যায়ের এসআইআরে সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। জন্মস্থান বা নাগরিকত্বের প্রমাণের পরিবর্তে আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের সদস্যের নাম আগের এসআইআরের ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফলে এসআইআরের বিভিন্ন পর্যায়ে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণার কাঠামো এক থাকেনি।
নতুন ভোটারদের জন্য কী বদলাল
নির্বাচন কমিশনের শনিবারের বক্তব্যের পর মূল বিষয়টি হল, নতুন ভোটারদের ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার নিয়ম এখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় এসআইআর চলছে কি না, তার উপর নির্ভর করবে।
এসআইআর চলছে এমন এলাকায়:
ফর্ম ৬-এর সঙ্গে নির্দিষ্ট ঘোষণা এবং আগের এসআইআর ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপিংয়ের তথ্য দিতে হবে।
এসআইআর চলছে না এমন এলাকায়:
রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০ অনুযায়ী সাধারণ ফর্ম ৬ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হবে এবং আগের এসআইআরের সঙ্গে ম্যাপিং সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে হবে না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, নতুন ও প্রথমবারের ভোটারদের পাশাপাশি তাঁদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কমিশন এ জন্য বিশেষ এনরোলমেন্ট ড্রাইভ চালানোর নির্দেশও দিয়েছে।
ফলে নতুন ভোটারদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাঁদের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর বর্তমানে কার্যকর রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া। কারণ ফর্ম ৬-এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ঘোষণার নিয়ম সেই অবস্থার উপরই নির্ভর করছে।
