বাংলার ফুসফুস বাঁচাতে ২০২৭ র মধ্যে লাগানো হবে ২০ কোটি গাছ

কলকাতা: একটি গাছ একটি প্রাণ, এই প্রবাদ বাক্য সকলেরই জানা। (Tree Plantation)তারসঙ্গে কলকাতা সহ সমগ্র বাংলা আজ পরিবেশ দূষণে ভুগছে। শুধু তাই নয় গাছের অভাবে…

west-bengal-tree-plantation

কলকাতা: একটি গাছ একটি প্রাণ, এই প্রবাদ বাক্য সকলেরই জানা। (Tree Plantation)তারসঙ্গে কলকাতা সহ সমগ্র বাংলা আজ পরিবেশ দূষণে ভুগছে। শুধু তাই নয় গাছের অভাবে বর্ষা এলেই শুরু হয় ভূমিধস। ভারী বর্ষায় বাংলার বিভিন্ন জেলায় ভাঙে ঘর ভূমিধসে তা চলে যায় অতল জলের আহ্বানে।

Advertisements

এই কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৭ সালে রাজ্যে ২০ কোটি গাছ লাগানো হবে (Tree Plantation)। এর আগে চলতি বছরের মধ্যে ১০ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এগুলো অন্তত দুই বছর যত্ন নেওয়া হবে। বন দফতর ও পঞ্চায়েত দফতর যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

   

আরও দেখুনঃ ভারতের চাহিদা পূরণ হলে তবেই বাংলাদেশকে জ্বালানী সাহায্য দেওয়া হবে! বিবৃতি বিদেশ মন্ত্রকের

ইতিমধ্যে একদিনে ৫০ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু হয়েছে।সুন্দরবনে অক্টোবর থেকে তিন কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে এবং ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলার ঘটনায় এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Advertisements

সেই ক্ষতি পূরণেই এই বিশেষ উদ্যোগ। (Tree Plantation)গাছ লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু চারা লাগিয়ে ছবি তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই থেকে তিন বছর যত্ন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে গাছগুলো বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে এবং সবুজ আচ্ছাদন স্থায়ী হবে। জি র্যাম জি বা ভিকসিত ভারত কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে এই রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে।

এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।সরকার আগামী কয়েক মাসে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ হাতে নিতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েত প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ পাবে। এতে স্থানীয় মানুষ সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন এবং পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আয়ের সুযোগও পাবেন।

আরও দেখুনঃ রক্ষকই ভক্ষক! গেস্ট হাউসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর

নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রেও এক-তৃতীয়াংশ জায়গা সবুজায়নের (Tree Plantation)জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার সময় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।এই উদ্যোগ রাজ্যের পরিবেশগত অবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কলকাতাসহ শহরাঞ্চল ক্রমেই কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শহরের ‘ফুসফুস’ রক্ষা করা এবং গ্রামীণ এলাকায় সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ রোপণ উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপত্তা বাড়াবে।

Advertisements