Honda Activa 110: তিন ভ্যারিয়েন্টে কী কী ফিচার, জানুন কোনটি সেরা

নয়াদিল্লি: ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যামিলি স্কুটার হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১১০ (Honda Activa 110) দেখতে যথেষ্ট সাধারণ হলেও ফিচারের দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। প্রয়োজন ও বাজেট…

honda-activa-110-variants-features-standard-dlx-h-smart

নয়াদিল্লি: ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যামিলি স্কুটার হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১১০ (Honda Activa 110) দেখতে যথেষ্ট সাধারণ হলেও ফিচারের দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী ক্রেতাদের জন্য স্কুটারটি তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়। এগুলি হল স্ট্যান্ডার্ড, ডিএলএক্স এবং এইচ-স্মার্ট।

Advertisements

দিল্লিতে স্কুটারটির স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টের দাম ৭৬,০৮৩ টাকা, ডিএলএক্স ভ্যারিয়েন্টের দাম ৮৬,৬১১ টাকা এবং সবচেয়ে দামি এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টের দাম ৯১,০৮২ টাকা। সব দামই এক্স-শোরুম।

   

এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে সবচেয়ে বেশি ফিচার

অ্যাক্টিভা ১১০-এর সবচেয়ে বেশি ফিচার পাওয়া যায় এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে। এই মডেলের অন্যতম আকর্ষণ হল মাল্টি-ফাংশন স্মার্ট সুইচ ইউনিট এবং স্মার্ট কি। স্মার্ট কি ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। স্মার্ট ফাইন্ড ব্যবহার করে ভিড়ের মধ্যে স্কুটার খুঁজে বের করা যায়। এই ফিচার চালু করলে স্কুটারের ইন্ডিকেটর জ্বলে ওঠে।

স্মার্ট আনলক হ্যান্ডেলবার এবং সিটের লক নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। স্মার্ট স্টার্ট ব্যবস্থায় পকেটে চাবি রেখেই ইঞ্জিন চালু করা যায়। অন্যদিকে, স্মার্ট সেফ অ্যান্টি-থেফট ইমোবিলাইজার হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, প্রতিদিন স্কুটার ব্যবহারের সময় বারবার চাবি বের করার ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।

Advertisements

ব্লুটুথ ও নেভিগেশন

এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং হোন্ডা রোডসিঙ্ক অ্যাপ। স্মার্টফোনকে স্কুটারের ৪.২ ইঞ্চি টিএফটি ডিসপ্লের সঙ্গে ব্লুটুথের মাধ্যমে যুক্ত করা যায়। ডিএলএক্স এবং এইচ-স্মার্ট, দুই ভ্যারিয়েন্টেই এই টিএফটি কনসোল পাওয়া যায়। এতে ট্যাকোমিটার, মাইলেজ এবং রেঞ্জের তথ্যের পাশাপাশি ঘড়ি ও ইকো ইন্ডিকেটরও দেখা যায়।

হোন্ডা রোডসিঙ্কের মাধ্যমে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, ভয়েস অ্যাসিস্ট, কলিং, মেসেজ-আনসার ব্যাক এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো সুবিধাও পাওয়া যায়। টিএফটি ডিসপ্লের মাধ্যমে মিউজিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে।  স্কুটারে ট্যাকোমিটারের ব্যবহার খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং মাইলেজ, রেঞ্জ এবং নেভিগেশনের তথ্য দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশি কাজে আসতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টে কী আছে?

যাঁরা অতিরিক্ত স্মার্ট ফিচার চান না, তাঁদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টে তুলনামূলক সহজ কনসোল দেওয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে অ্যানালগ স্পিডোমিটার, অ্যানালগ ফুয়েল গেজ, বিভিন্ন সতর্কতা নির্দেশক এবং ওডোমিটার। ডিএলএক্স এবং এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে টিএফটি মিটার ছাড়াও ইকো ইন্ডিকেটর, লাইভ মাইলেজ ইন্ডিকেটর, গড় জ্বালানি দক্ষতা এবং খালি ট্যাঙ্কে কত দূর যাওয়া যাবে সেই রেঞ্জ ইন্ডিকেটর রয়েছে। ডিএলএক্স এবং এইচ-স্মার্টে অ্যালয় হুইলও পাওয়া যায়। এছাড়া রয়েছে পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স ইন্ডিকেটর এবং মিটার লাইটের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উজ্জ্বল ও অন্ধকার থিমে পরিবর্তনের সুবিধা।

ইউএসবি-সি চার্জিং ও দৈনন্দিন সুবিধা

স্কুটারের ডিএলএক্স এবং এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টে ইউএসবি-সি চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টে এটি অপশন হিসেবে পাওয়া যায়। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে আইডলিং স্টপ সিস্টেম, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিন বন্ধ করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করে। এছাড়া রয়েছে বাহ্যিক ফুয়েল ফিলার ক্যাপ, সম্পূর্ণ ধাতব বডি, গ্লাভ বক্স এবং সাইলেন্ট স্টার্টার। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই ১৮ লিটারের আন্ডার-সিট স্টোরেজ রয়েছে। প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য জায়গাটি যথেষ্ট হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী টিভিএস জুপিটার-এর স্টোরেজ স্পেস আরও বেশি।

নিরাপত্তার দিক থেকে কী রয়েছে?

অ্যাক্টিভা ১১০-এর তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম। এটি পিছনের ব্রেক প্রয়োগ করার সময় ব্রেকিং ফোর্সের একটি অংশ সামনের চাকায় পাঠায়, ফলে ব্রেক করার সময় স্কুটারের স্থিতিশীলতা বাড়ে। এছাড়া সব ভ্যারিয়েন্টেই টিউবলেস টায়ার রয়েছে। পাংচার হলে হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে এই ধরনের টায়ার সুবিধা দেয়।  সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ ফিচারটি স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে দেওয়া হয়নি। এটি অ্যাকসেসরি হিসেবে পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থা থাকলে সাইড-স্ট্যান্ড নামানো অবস্থায় স্কুটার চালু হওয়া আটকানো যায়।

কোন ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেবেন?

যাঁরা শুধু নির্ভরযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় ফিচারসহ অ্যাক্টিভা চান, তাঁদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্ট যথেষ্ট হতে পারে। একটু বেশি সুবিধা চাইলে ডিএলএক্স ভ্যারিয়েন্টে টিএফটি মিটার, অ্যালয় হুইল এবং অতিরিক্ত তথ্যভিত্তিক ফিচার পাওয়া যায়। আর স্মার্ট কি, ব্লুটুথ, রোডসিঙ্ক অ্যাপ, নেভিগেশন এবং স্মার্ট আনলকের মতো প্রযুক্তি যদি অগ্রাধিকার হয়, তাহলে এইচ-স্মার্ট ভ্যারিয়েন্টই সবচেয়ে বেশি ফিচার সমৃদ্ধ বিকল্প।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements