লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার ডুমরিয়াগঞ্জ তহশিল এলাকায় সরকারি (Madrasa Demolition)জমিতে নির্মিত একটি পুরনো মাদ্রাসা ভেঙে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রশাসনের নির্দেশে বুলডোজার অভিযান চালিয়ে পিপরা রামলাল গ্রামের আরবিয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের দাবি, এই মাদ্রাসা সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছিল এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ীই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসাটি প্রায় ৫৯ বছরের পুরনো এবং ১৯৬৮ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এখানে উর্দু মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ শিশুর শিক্ষাদান হতো। তবে রাজস্ব নথি অনুযায়ী, যে জমিতে এটি গড়ে উঠেছিল তার একটি বড় অংশ খেলার মাঠ এবং গ্রামসভার জমি হিসেবে নথিভুক্ত। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য আদালতের নির্দেশ ছিল।
আরও দেখুনঃ ভারতের চাহিদা পূরণ হলে তবেই বাংলাদেশকে জ্বালানী সাহায্য দেওয়া হবে! বিবৃতি বিদেশ মন্ত্রকের
ডুমরিয়াগঞ্জের তহশিলদার আদালত আগেই উচ্ছেদের আদেশ দিয়েছিল। (Madrasa Demolition)পরে জেলাধিকারী আদালতে আপিল করা হলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। আগস্টের শুরুর দিকে জেলাধিকারী আদালত উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব সংহিতার ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত আদেশ দেন। সেই আদেশ মেনেই মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি বুলডোজার মোতায়েন করা হয় এবং পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছিল।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাটা নম্বর ১০২৮ ও ১০২৯-এর জমি সরকারি মালিকানাধীন। (Madrasa Demolition)এর একটি অংশ খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত এবং অন্য অংশ গ্রামসভার জমি। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে এটি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত, তবে সরকারি স্বীকৃতি বা বৈধ মালিকানার প্রমাণ পর্যাপ্ত ছিল না বলে প্রশাসনের বক্তব্য। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণ সরিয়ে না নেওয়ায় অবশেষে বুলডোজার অভিযান পরিচালিত হয়।
আরও দেখুনঃ জন্তরমন্তর প্রতিবাদে উপস্থিত ছিল ২৪০০ দাগি আসামি! ফেস রিকগনিশনে ফাঁস বড় তথ্য
অভিযানের সময় স্থানীয়ভাবে কিছু প্রতিবাদও হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। তবে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। অতিরিক্ত জেলাধিকারী গৌরব শ্রীবাস্তবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে অবৈধ নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে।
প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, (Madrasa Demolition)বরং আইন অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পদক্ষেপ। একই ধরনের অভিযান অন্যান্য জায়গায়ও পরিচালিত হয়েছে।মাদ্রাসার পরিচালনাকারীরা অবশ্য এই অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার কথা বলেছেন।
তাঁরা দাবি করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রতিষ্ঠান স্থানীয় শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে প্রশাসন আদালতের আদেশকেই প্রাধান্য দিয়েছে এবং বলেছে যে বৈধ জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা উচিত।
