পুরুলিয়ায় বিমান পরিবহনে নতুন দিগন্ত! আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর

কলকাতা: পুরুলিয়ায় বিমান পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষা। (Purulia Airport)কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় এই জেলায় বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী…

purulia-airport-udan-project

কলকাতা: পুরুলিয়ায় বিমান পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষা। (Purulia Airport)কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় এই জেলায় বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে। রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

এই বিমানবন্দর শুধুমাত্র আকাশপথে যোগাযোগের সুবিধা বাড়াবে না, বরং পর্যটন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। (Purulia Airport )পুরুলিয়ার মাটিতে আজ যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা শুধু বিমানবন্দরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে এই জেলায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে।

   

আরও দেখুনঃ সিআইডি হেফাজতে বয়ান বদল আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের, কার ঘাড়ে চাপালেন দায়?

প্রতিরক্ষা, ইস্পাত, সিমেন্ট ও সৌরশক্তি খাত থেকে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চাহিদা বেশ জোরালো। রাঘুনাথপুরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভূমিপূজনও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি মিনি চিড়িয়াখানা সম্প্রসারণ এবং বন দফতরের গেস্ট হাউসগুলোর উন্নয়নের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।পুরুলিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলে আসছেন।

Advertisements

পাহাড়-জঙ্গল, ঝর্ণা আর প্রাচীন ইতিহাসের এই জেলা আজও অনেকের কাছে অপরিচিত। (Purulia Airport)কিন্তু এখন যদি বিমান যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। শিল্পপতিরাও এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রতিরক্ষা ও ইস্পাত খাতের মতো বড় শিল্প এলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় যুবক-যুবতীরা নিজেদের জেলায় কাজের সুযোগ পাবেন।

সৌরশক্তির প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।রাজ্য সরকারের দাবি, বিমানবন্দরের কাজ শুরু হলে শুধু পুরুলিয়া নয়, আশপাশের জেলাগুলোও উপকৃত হবে। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম বা পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেও মানুষ সহজে কলকাতা বা অন্যান্য শহরে যেতে পারবেন। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তরফে অজয় নদী, অযোধ্যা পাহাড়, মাথন রিভার ভ্যালি-সহ বিভিন্ন স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বন দফতরের গেস্ট হাউসগুলো উন্নত হলে পর্যটকরা আরও ভালো সুবিধা পাবেন। মিনি চিড়িয়াখানা সম্প্রসারণ হলে শিশুদের জন্যও নতুন আকর্ষণ তৈরি হবে।তবে এইসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত অনুমতি ও স্থানীয় মানুষের সম্মতি এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, উন্নয়নের নামে যাতে তাদের জমি বা জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সরকার যদি স্বচ্ছভাবে কাজ করে এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, তাহলে এই বিনিয়োগ সত্যিই পুরুলিয়ার মুখ বদলে দিতে পারে। (Purulia Airport)এক লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা শুনে অনেকেই বিস্মিত। কিন্তু প্রতিরক্ষা, ইস্পাত, সিমেন্ট ও সৌরশক্তির মতো খাত যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে এই অঙ্ক অসম্ভব নয়। রাঘুনাথপুরের পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ইতিমধ্যেই একটি বড় পদক্ষেপ। এ ধরনের আরও প্রকল্প এলে পুরুলিয়া শুধু পশ্চিমবঙ্গেরই নয়, পূর্ব ভারতের অন্যতম শিল্প ও পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements