পরকীয়ার জের! হিন্দু প্রেমিকার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজেও পুড়ে মরল হামিদুল

কোচবিহার: কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকায় এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। (Cooch Behar)পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তি তার সঙ্গিনীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে…

cooch-behar-fire-incident

কোচবিহার: কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকায় এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। (Cooch Behar)পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তি তার সঙ্গিনীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে আগুন তার নিজের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে সেই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতের নাম হামিদুল হক। তার বয়স ছিল চুয়াল্লিশ বছর। আহত মহিলা ঝিলিক বর্মন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Advertisements

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিলিক বর্মন মা ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। স্বামীর সঙ্গে তার ডিভোর্সের মামলা চলছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হরিণচওড়া এলাকার হামিদুল হকের সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

   

আরও দেখুনঃ ২৫৪ কোটির বন্যাত্রান-নয়া মেডিকেল কলেজে সেজে উঠছে দার্জিলিং-কালিম্পঙ

ঝিলিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করেন এবং হামিদুলের ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। (Cooch Behar)এতে হামিদুল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।শুক্রবার দুপুরে হামিদুল পেট্রোল নিয়ে ঝিলিকের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি ঝিলিকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আগুন হামিদুলের শরীরেও লাগে। ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয় মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যান।

Advertisements

হামিদুলের অবস্থা গুরুতর ছিল। (Cooch Behar)চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। ঝিলিক এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতা থেকে উদ্ভূত একটি ব্যক্তিগত বিরোধ। হামিদুল নিজেও বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। ঝিলিকেরও একটি সন্তান আছে। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।

সম্প্রতি ঝিলিক সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে অশান্তি তৈরি করে। পুলিশ ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঝিলিকের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দিচ্ছে। তার পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন।

সমাজে এ ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।কোচবিহারের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন হিংসায়রূপ নিতে পারে না। (Cooch Behar)আইনের শাসন মেনে চলা এবং সমস্যা সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। হাসপাতালে ঝিলিকের চিকিৎসা চলছে এবং তার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সবাই প্রার্থনা করছেন। পুলিশের তদন্ত শেষ হলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে

Advertisements