কলকাতা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ স্থল শিলিগুড়ি করিডর(Siliguri Corridor)। যাকে সাধারণভাবে ‘চিকেনস নেক’ বলে ডাকা হয়। মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই সরু ভূমিখণ্ডটি এখন আর দুর্বলতার প্রতীক নয়। বরং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এটি হয়ে উঠছে এক শক্তিশালী, বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ঢাল। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যাতে কোনো পরিস্থিতিতেই উত্তর-পূর্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও মজবুত হয়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। (Siliguri Corridor)এর একপাশে নেপাল ও ভুটান, অন্যপাশে বাংলাদেশ, আর কাছেই চিনের চুম্বি উপত্যকা। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এটি সবসময়ই কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল। সেই কারণে ভারত সরকার এখন এখানে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ কমান্ড হাব, আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা।
আরও দেখুনঃ বিদায়বেলায় ‘ক্লাউড হাইওয়ে’! ভারত থেকে জাপান মেঘের ব্যান্ড, কতদিন দুর্যোগ বাংলায়?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এইসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৫৩০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতেও নিরাপদ যোগাযোগ ও নির্দেশনা বজায় থাকে। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বোমারু আশ্রয়কেন্দ্র এবং ভূগর্ভস্থ রেল ব্যবস্থা, যা যুদ্ধকালীন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও সরবরাহ ও সেনা চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করবে।শুধু প্রতিরক্ষা নয়, পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
গোরখপুর থেকে শিলিগুড়ি (Siliguri Corridor)পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে করিডর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে, যা নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি দিয়ে চলবে। এর ফলে উত্তর ভারত থেকে সিলিগুড়ি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছানো অনেক দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি রিং রোড এবং সীমান্ত এলাকায় বাইপাস রোড তৈরি করা হচ্ছে, যাতে নেপাল ও ভুটানের সাথে যোগাযোগ সহজ হয় এবং মূল করিডরের উপর চাপ কমে।
এই রাস্তাগুলো শুধু বেসামরিক যানবাহনের জন্যই নয়, সেনা ও সরঞ্জাম দ্রুত মোতায়েনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ত্রিশক্তি কর্পসের নেতৃত্বে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নতুন গ্যারিসন স্থাপন, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব মিলিয়ে করিডরটিকে এখন ‘সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সংযোগ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আগে যেখানে এই অঞ্চলকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হতো, এখন সেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, লজিস্টিকস এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় অনেক মজবুত হয়েছে।এই পদক্ষেপগুলো শুধু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভালো রাস্তা, নিরাপদ পরিবহন এবং স্থিতিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও এগিয়ে নেবে। চা বাগান, কৃষিপণ্য এবং পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে।
