বিজেপি-তৃণমূল ছেড়ে একলা চলো! ‘জেন জি’-দের নিয়ে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ গড়লেন চন্দ্র বসু

কলকাতা: রাজনীতিতে তাঁর যাত্রাপথ বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগদান, পরে দলত্যাগ করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূলে আসা। আর তৃণমূলের পরাজয়ের পর সেই…

কলকাতা: রাজনীতিতে তাঁর যাত্রাপথ বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগদান, পরে দলত্যাগ করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূলে আসা। আর তৃণমূলের পরাজয়ের পর সেই দলও ছেড়ে দেওয়া! জোড়াফুল শিবির ত্যাগের পর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ বার রাজনীতিতে নতুন মোড় আনলেন তিনি। নিজস্ব রাজনৈতিক দল গড়ার ঘোষণা করলেন চন্দ্র বসু। দলের নাম রেখেছেন, ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ ‘জেন জি’ (Gen Z) বা যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে এবং নেতাজির আদর্শকে পাথেয় করেই এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ।

Advertisements

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দ্র বসু জানান, যুব সম্প্রদায়কে ঘিরেই তাঁর এই আজাদ হিন্দ পার্টির কাঠামো তৈরি হবে। তাঁর মতে, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির সর্বোচ্চ উদাহরণ হলেন নেতাজি। আর স্বাধীনতার ৮০ বছর পর দেশের যুব সমাজ যে ভাবে নিজেদের অধিকারের দাবিতে যন্তর মন্তরের মতো জায়গায় আন্দোলনে নেমেছে, তা থেকেই তিনি এই দল গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। চন্দ্র বসু বলেন, “গোটা দেশে যে ভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে সমস্ত রাজনৈতিক দলই জড়িত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শিল্প, সর্বত্রই দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে। সরকার, প্রশাসন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে বিরক্ত জেন জি। নিজেদের অধিকারের লড়াই করার জন্য তাদের একটা প্ল্যাটফর্ম চাই। নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’-র চেয়ে ভাল প্ল্যাটফর্ম আর কী হতে পারে তাদের জন্য?”

   

তাঁর এই রাজনৈতিক দলবদলের নেপথ্যে অবশ্য দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস রয়েছে বলে দাবি চন্দ্র বসুর। ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ ৭ বছর তিনি পদ্ম-শিবিরে ছিলেন। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নেতাজির আদর্শ বহন করতে একটি ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গঠন করা হবে এবং তাঁকেই তার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই মোর্চা গোটা বিশ্বে নেতাজির আদর্শ পৌঁছে দেবে। চন্দ্র বসুর কথায়, “আমি ৭ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। অনেক ধৈর্য ধরেছিলাম। কিন্তু কোনও আজাদ হিন্দ মোর্চা তৈরি হয়নি। কেন হল না? একমাত্র বিজেপি নেতৃত্বই এর উত্তর দিতে পারবেন। ওরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম।”

বিজেপিতে মোহভঙ্গের পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন চন্দ্র বসু। সেখানেও তাঁর আশা ছিল নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তিনি জানান, ২৬-এর এপ্রিলে তাঁকে বলা হয়েছিল যে দল নেতাজির আদর্শে বিশ্বাস করে এবং তিনি সেই সুযোগ পাবেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পরাজিত হওয়ার পর, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঘাসফুল শিবিরও ত্যাগ করেন তিনি। চন্দ্র বসুর মতে, রাজনৈতিক দলগুলি এখন একঘেঁয়ে ও নিম্নরুচির রাজনীতি করছে।

Advertisements

বর্তমান রাজনীতিতে একটি প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্মের বড় অভাব রয়েছে বলে মনে করেন নেতাজির প্রপৌত্র। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তাঁর এই নতুন উদ্যোগ। তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, “সমস্ত প্রগতিশীল, নিরপেক্ষ যুবক-যুবতীরা আজাদ হিন্দ পার্টিকে অবশ্যই সমর্থন করবে।” তবে নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে বর্তমান রাজনীতির ঘোলাটে ময়দানে এই ‘জেন জি’-নির্ভর আজাদ হিন্দ পার্টি কতটা সফল হতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

পান মশলার প্লাস্টিকের মোড়ক নিষিদ্ধ! কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

চাঁদে ঘাঁটি তৈরির মার্কিন পরিকল্পনায় ভারত! ISRO-কে NASA-র আমন্ত্রণ

Advertisements