বেঙ্গালুরু: মহাকাশ গবেষণায় ভারত ও আমেরিকার (NASA)সহযোগিতা এবার আরও বড় পরিসরে পৌঁছতে চলেছে। চাঁদের মাটিতে ভবিষ্যৎ মানব বসতি ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলার মার্কিন পরিকল্পনায় ভারতকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে NASA।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-কে NASA-র Moon Base Programme-এ যোগ দেওয়ার এই প্রস্তাব দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু চাঁদে অভিযান নয়, মহাকাশবিজ্ঞান, মানব মহাকাশযাত্রা, বৈজ্ঞানিক তথ্য আদানপ্রদান এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মকাণ্ড নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও দেখুন ২০৩০ র মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ভারতে! নজরে বাংলা
গত ৫ ও ৬ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে ISRO-র সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় ভারত-মার্কিন Civil Space Joint Working Group-এর নবম বৈঠক। সেখানেই NASA-র পক্ষ থেকে ভারতকে Moon Base Programme-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে মার্কিন দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, সেই বিষয়টিই বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল।
এই বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ISRO-র চেয়ারম্যান এবং Department of Space-এর সচিব ভি নারায়ণন। মার্কিন পক্ষ থেকে বৈঠকের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। দুই দেশের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে দেন, মহাকাশ গবেষণায় ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন শুধু কয়েকটি যৌথ মিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মকাণ্ড এবং মানব মহাকাশযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও দেখুন সিরিয়ার আদালতে মৃত্যুদণ্ড গৃহযুদ্ধে অভিযুক্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের!
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে Artemis Accords-এর আওতায় বৈজ্ঞানিক তথ্য আদানপ্রদান। চাঁদ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর শান্তিপূর্ণ অনুসন্ধান এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার নীতিমালা নির্ধারণ করে Artemis Accords।
ভারত ইতিমধ্যেই এই চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে। এবার দুই দেশ এই কাঠামোর আওতায় উন্মুক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ভাগাভাগি করার বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতের চন্দ্র গবেষণা এবং মহাকাশ অভিযানে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভারত ও আমেরিকার মহাকাশ সহযোগিতার অন্যতম বড় সাফল্য NISAR মিশনও আলোচনায় উঠে এসেছে। NASA এবং ISRO-র যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই Synthetic Aperture Radar বা SAR উপগ্রহ পৃথিবীর ভূমি ও বরফের স্তরে সময়ের সঙ্গে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। গত বছর এই যৌথ মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর দুই দেশ এবার সেই সাফল্যের ভিত্তিতে আরও বড় প্রকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
আরও দেখুন টেলিকম PLI-তে ৫২০০ কোটি বিনিয়োগ! বিক্রি ছাড়াল ১.১ লক্ষ কোটি
