কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে আরেকটি বড় সংযোজন হতে চলেছে। (Anil Balaji)অনিল বালাজি স্টিল বা এবিএস আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এই বিনিয়োগ তাদের মোট ২০০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। মূল লক্ষ্য উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো। হাওড়ার জঙ্গলপুরে কোম্পানির বিদ্যমান এক লাখ বর্গফুটের কারখানায় আরও দুই লাখ বর্গফুট যোগ করা হবে।
ফলে মোট উৎপাদন এলাকা তিনগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে এবিএসের বার্ষিক টার্নওভার ১২৫ কোটি টাকারও বেশি এবং তারা প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার টন পণ্য হ্যান্ডল করে। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা আরও অনেকখানি বাড়বে।এবিএসের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছানো। সেই লক্ষ্যপূরণের পথেই এই বড় ধরনের বিনিয়োগ।
আরও দেখুনঃ মাত্র ৪৫ দিনে ১,১২৯ জমি হস্তান্তর! শুভেন্দুকে শাহী প্রশংসা
শুধু নিজেদের কারখানা সম্প্রসারণ নয়, অন্যান্য রাজ্যেও কারখানা অধিগ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কর্মসংস্থানের দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। (Anil Balaji)বর্তমানে কোম্পানিতে কর্মরত আছেন ১৭৫ জন। সম্প্রসারণের পর এই সংখ্যা বেড়ে ৫০০ জনেরও বেশি হবে। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। হাওড়ার জঙ্গলপুর এলাকায় নতুন করে কর্মসংস্থান বাড়লে আশপাশের অর্থনীতিও চাঙা হবে।
কলকাতায় এবিএস তাদের নতুন ‘ফ্যাব্রিকা’ উল্লম্ব চালু করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ফাংশনাল স্টিল সলিউশন নিয়ে বাজারে আসবে। এর জন্য ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রাহকরা সেখানে গিয়ে সরাসরি পণ্য দেখতে ও বুঝতে পারবেন। (Anil Balaji )আধুনিক স্টিল সলিউশনের চাহিদা বাড়ছে নির্মাণ, পরিকাঠামো ও শিল্পক্ষেত্রে। ফ্যাব্রিকা সেই চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। কলকাতায় এমন একটি অভিজ্ঞতা কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে রাজ্যের স্টিল শিল্প আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
আরও দেখুনঃ জলপথে পণ্য পরিবহনে উঠে আসছে বাংলা! ২০২৫-২৬ এ পরিবহন বাড়ল ২১৮ মিলিয়ন টনে
জঙ্গলপুরের কারখানা সম্প্রসারণ শুধু জায়গার বৃদ্ধি নয়। (Anil Balaji)এর সঙ্গে যুক্ত হবে আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল। উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ হলে সরবরাহের গতি বাড়বে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পৌঁছানো সহজ হবে। এবিএস ইতিমধ্যেই একটি পরিচিত নাম। এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে তারা। ২০০ কোটি টাকার মোট পরিকল্পনার মধ্যে বাংলার অংশ ১০০ কোটি টাকা হওয়ায় রাজ্য সরকারের শিল্পবান্ধব নীতির প্রতিও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা যখন রাজ্যে আস্থা রাখেন, তখন তা অন্যান্য সংস্থাকেও উৎসাহ জোগায়।কর্মসংস্থানের সংখ্যা ১৭৫ থেকে ৫০০-এর ওপরে ওঠা মানে শুধু চাকরি নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্প্রসারণ। ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্মী, কাঁচামাল সরবরাহকারী সবাই উপকৃত হবেন। হাওড়ার মতো শিল্পপ্রধান জেলায় এমন বিনিয়োগ আরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।
আরও দেখুনঃ ‘ইসলামিক ন্যাটো’-য় যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ? সৌদি-পাক-তুরস্কের ‘মক্কা চুক্তি’ ঘিরে জল্পনা
জঙ্গলপুর এলাকায় কারখানা বড় হলে আশপাশের পরিকাঠামোও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।(Anil Balaji)এবিএসের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে হলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার ধরতে হবে। কারখানা অধিগ্রহণের মাধ্যমে অন্য রাজ্যে প্রবেশের পরিকল্পনা সেই লক্ষ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।
