ডুরান্ড কাপ ফাইনালে পেনাল্টি চান না মোহনবাগান কোচ পানোস

কলকাতা: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নামার আগে (Kolkata Derby) ব্যস্ত সূচি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও দলের মানসিক শক্তি এবং ডার্বির অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখছেন…

Kolkata Derby: mohun-bagan-panos-avoid-penalty-shootout-durand-cup-final

কলকাতা: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নামার আগে (Kolkata Derby) ব্যস্ত সূচি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও দলের মানসিক শক্তি এবং ডার্বির অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ পানাগিওটিস দিলমপেরিস (পানোস) । রবিবারের ফাইনাল পেনাল্টি শুটআউটে না গড়িয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই জিততে চান তিনি। ডুরান্ড কাপের ফাইনালের আগে মোহনবাগানকে কঠিন সূচির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, ছয় দিনে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে দলকে, যার মধ্যে একটি ছিল অ্যাওয়ে ম্যাচ। শনিবারও দলের কোনও অনুশীলন হয়নি। পরে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে মাঠে ফেরার কথা ছিল।

Advertisements

Read English: Mohun Bagan to Avoid Penalty Shootout

   

প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে পানোস বলেন, “সূচি নিয়ে আমরা সত্যিই হতাশ। গ্রুপ পর্বে প্রথম এবং সেরা দলটির সঙ্গে যে ভাবে সূচি তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অন্যায্য।” তবে সূচি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ফাইনালের আগে মানসিক প্রস্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। “এই ধরনের ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতি এবং আপনি মস্তিষ্ক ও মানসিকভাবে কীভাবে নিজেকে তৈরি করছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমরা এ নিয়েই কথা বলব,” বলেন মোহনবাগান কোচ।

একই প্রতিপক্ষ, কিন্তু দুই ডার্বি আলাদা

ডুরান্ড কাপের শুরু হয়েছিল মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দিয়ে। টুর্নামেন্টের শেষও হচ্ছে সেই কলকাতা ডার্বি দিয়ে। তবে প্রথম ম্যাচ এবং ফাইনালের মধ্যে সরাসরি তুলনা করতে নারাজ পানোস। তাঁর মতে, “এগুলি দুটি আলাদা দল। প্রথম ম্যাচটি ছিল মরশুমের শুরুতে। এখন দুই দলই আরও বেশি ম্যাচ খেলেছে। দুই দলের স্কোয়াডেও পরিবর্তন এসেছে। ভারতীয় খেলোয়াড় এবং বিদেশি খেলোয়াড়, দু’দলেই এখন সংখ্যা ও পরিস্থিতি আলাদা।” চোট এবং বেশি সংখ্যক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচও দুই দলের পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisements

তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর অভিজ্ঞতা মোহনবাগানকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। “আমরা আগের ম্যাচটি ভুলে যেতে পারি না। আমরা জিতেছিলাম। ওদের হারিয়েছিলাম। আমরা জানি যে আমরা সেটা করতে পারি,” বলেন পানোস। আগের ডার্বির বড় সময়জুড়ে মোহনবাগানই ভালো দল ছিল বলেও মনে করেন তিনি। সেই পারফরম্যান্স ফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

বিশাল কাইথের প্রশংসায় পানোস

ডুরান্ড কাপে পেনাল্টি শুটআউটে মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ নজর কেড়েছেন। তাঁকে ভারতের সেরা গোলরক্ষকদের একজন মনে করেন কি না, প্রশ্ন করা হলে পানোসের উত্তর ছিল এককথায়, “হ্যাঁ।” কাইথের নির্দিষ্ট কিছু গুণেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয় অন্য অনেক গোলরক্ষকের মধ্যে যে গুণগুলি দেখা যায় না, কাইথের মধ্যে তার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

গোল না পাওয়া নিয়ে দলের পাশে কোচ

শেষ দুই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেনি মোহনবাগান। তবে দলের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন পানোস। আগের ম্যাচগুলিতে সুযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শেষ ম্যাচে মাঠে জল জমে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। “আবহাওয়া যখন এমন থাকে, তখন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফুটবল খেলাটা সবসময় দাবি করা যায় না। আমরা ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিই,” বলেন তিনি। তবে দলের মান অনুযায়ী কিছু জায়গায় আরও উন্নতি প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেছেন মোহনবাগান কোচ। “আশা করি আগামীকাল আমরা ভালো মাঠে খেলব এবং আবার গোল করা ও সুযোগ তৈরি করার জায়গায় ফিরব,” বলেন পানোস।

শুধু অভিজ্ঞতা দিয়ে ডার্বি জেতা যায় না

মোহনবাগানের একাধিক বিদেশি খেলোয়াড়ের কলকাতা ডার্বিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় মোহনবাগান শিবিরে এই অভিজ্ঞতা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধু অভিজ্ঞতাই ফাইনালের ফল নির্ধারণ করবে না বলে সতর্ক করেছেন পানোস। “এই ধরনের ম্যাচে অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুভূতি, আবেগ, স্টেডিয়ামের পরিবেশ, গ্যালারিভর্তি দর্শক এবং চাপের সঙ্গে পরিচিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু এটুকু যথেষ্ট নয়,” তাঁর বক্তব্য। অভিজ্ঞতার সঙ্গে আবেগ, আত্মবিশ্বাস, নম্রতা এবং মানসিক ভারসাম্যও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ডুরান্ড কাপের ট্রফিই লক্ষ্য

ডুরান্ড কাপ মোহনবাগানের প্রাক-মরশুম প্রস্তুতির অংশ হলেও ফাইনালের গুরুত্ব কোনওভাবেই কমিয়ে দেখতে চান না পানোস। তাঁর সরাসরি লক্ষ্য ট্রফি ঘরে ফেরানো। “আমরা ট্রফি জিততে চাই এবং কাপটা ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাই,” বলেন তিনি।

আসন্ন মরশুমের সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও কঠিন বলে জানিয়েছেন পানোস। তাঁর মতে, স্বাভাবিক প্রাক-মরশুম প্রস্তুতির ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: ফিটনেস, কারিগরি দক্ষতা, কৌশল এবং মানসিক প্রস্তুতি। ডুরান্ড কাপের ব্যস্ত সূচিতে মোহনবাগান মূলত খেলোয়াড়দের সুস্থ ও নিরাপদ রাখার উপর জোর দিয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচগুলিই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

দেজান জুরিচকে নিয়ে আপডেট

আগের ম্যাচে দলের সঙ্গে ভ্রমণ না করা দেজান জুরিচের ফিটনেস নিয়েও আপডেট দিয়েছেন পানোস। তিনি জানান, অনুশীলনে জুরিচকে দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। “আমরা এখন মাঠে যাব, ওকে পরীক্ষা করব এবং দেখব ও কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে,” বলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ।

পেনাল্টি শুটআউট চান না পানোস

ডুরান্ড কাপে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে একাধিকবার এগিয়েছে মোহনবাগান। সেই ম্যাচগুলিতে বিশাল কাইথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু রবিবারের ফাইনালেও একই পরিস্থিতি দেখতে চান না পানোস। তিনি বরং নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের নিষ্পত্তি চান। পেনাল্টি শুটআউটে মোহনবাগানের কেউ এখনও পেনাল্টি মিস করেননি, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। “সবাই বিশালের কথা বলে, সেটা ভালো। কিন্তু কেউ বলে না যে আমরা একটিও পেনাল্টি মিস করিনি,” বলেন পানোস।

তবে তাঁর কাছে ম্যাচের গুরুত্ব শুধু ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় ফুটবলের জন্য এই কলকাতা ডার্বি একটি বড় মঞ্চ বলেও মনে করেন তিনি। খেলোয়াড়, কোচ, ম্যাচ আধিকারিক এবং সমর্থক, প্রত্যেকেরই ম্যাচটি সুষ্ঠু ও উচ্চমানের করে তোলার দায়িত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানোস। “এটা ভারতের জন্য বিজ্ঞাপন। আগামীকাল আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে,” বলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের শক্তি ও অভিজ্ঞতাকে সম্মান করেও মোহনবাগান কোচের শেষ বার্তা পরিষ্কার: পেনাল্টি শুটআউট নয়, নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ডার্বির ফয়সালা চান তিনি।

Advertisements