উত্তরাখণ্ডের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন বিতর্ক উঠেছে। (Uttarakhand)সম্প্রতি ৮২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার হুমকি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়নি। শূন্য তালিকাভুক্তির কারণেই সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সারা দেশ ব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল আরশোলা দল। এবার উত্তরাখণ্ডের এই সমস্যাকে সামনে রেখেই নিজেদের রাজনীতির ছক সাজাচ্ছে আরশোলারা এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে এই সমস্যার কথা সামনে এলেই এর ইতিহাসও জানা প্রয়োজন।
আরও দেখুনঃ ভারতের অস্ত্রে থাকবে না চিনের চিহ্ন! দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৬ দেশীয় ল্যাবের প্রস্তুতিতে মোদী সরকার
কেন এই বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র এল না? (Uttarakhand)উত্তর খুঁজতে হলে উত্তরাখণ্ডের গ্রামগুলোর জনশূন্যতার ইতিহাস দেখতে হবে।২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ৩৯ জন। গ্রামীণ জনসংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল বলে জানা গেলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৭৩৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে।
আরও ৫৬৫টি গ্রামে জনসংখ্যা অন্তত অর্ধেক কমে যায়। (Uttarakhand)এই দুই পরিসংখ্যান মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ গ্রাম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। মানুষ কেন গ্রাম ছেড়ে চলে গেল, সে প্রশ্ন এখনও প্রাসঙ্গিক।২০১৫ সালের দিকে প্রায় ৭৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। প্রায় ৯০০টি গ্রাম বা বসতিতে সড়ক যোগাযোগের অভাব ছিল। ২০১১ সালে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পরিবারের কোনো শৌচাগার ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে কোনো পরিবার কি তাদের সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকতে চাইবে? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, রাস্তা এসব মৌলিক সুবিধা না থাকলে মানুষ শহরের দিকে পা বাড়ায়। এর ফলে গ্রামের স্কুলগুলোতে ছাত্র কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। শূন্য ভর্তির কারণে স্কুল বন্ধ হওয়া তাই হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল।বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত পাঁচ বছরে ৬,২৮২ জন মানুষ নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন। এঁদের মধ্যে শুধু অবসরপ্রাপ্তরাই নন। ৪৩ শতাংশ মানুষ ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, অর্থাৎ কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্ম। এঁদের মধ্যে ২১.৫ শতাংশ পর্যটন-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হয়েছেন। ৫৩৭ জন উপকারভোগী হোম স্টে ব্যবসা শুরু করেছেন। এজন্য সরকার ৭৯.২৮ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। পর্যটন খাতে এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে কিছুটা চাঙা করতে সাহায্য করছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকটিও উল্লেখযোগ্য।(Uttarakhand) রাজ্যজুড়ে সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখন রাস্তা পৌঁছেছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। স্থানীয় মানুষ, এমনকি বিরোধী দলের সমর্থকরাও অনেকে স্বীকার করেন যে সড়ক ও পরিকাঠামোর উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এই উন্নয়ন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও মানুষ গ্রামে ফিরতে পারেন।
স্কুলগুলোতে আবার ছাত্র ভর্তি হতে পারে।তবুও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শুধু স্কুল খুলে রাখাই যথেষ্ট নয়। গ্রামে স্থায়ী কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান ও জীবনযাত্রার মান উন্নত না হলে মানুষ আবার শহরমুখী হবেন। হোম স্টে ও পর্যটন কিছু সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কিন্তু সব গ্রামে এই সুযোগ সমান নয়। পাহাড়ি এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষির সংকট ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।
