ভারতের অস্ত্রে থাকবে না চিনের চিহ্ন! দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৬ দেশীয় ল্যাবের প্রস্তুতিতে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: সামরিক ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার ( AASHVAST)করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় সেনা। চিনা উৎসের যন্ত্রাংশ এবং ড্রোনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য…

army-aashvast-cyber-labs-drones

নয়াদিল্লি: সামরিক ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার ( AASHVAST)করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় সেনা। চিনা উৎসের যন্ত্রাংশ এবং ড্রোনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য সাইবার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছয়টি বিশেষ সাইবার ল্যাবরেটরি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

এই ল্যাবগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনের ফার্মওয়্যার এবং এমবেডেড সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখা হবে। উদ্দেশ্য একটাই কোনও সামরিক প্ল্যাটফর্মের ভিতরে এমন কোনও কোড, কমান্ড বা প্রযুক্তি লুকিয়ে রয়েছে কি না, যা ভবিষ্যতে অপারেশনের সময় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, তা আগেভাগেই শনাক্ত করা।

   

আরও দেখুনঃ ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫০ রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য ভারতের, কিন্তু ইসরো কি আদৌ প্রস্তুত?

এই বিশেষ উদ্যোগের নাম AASHVAST। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের জন্য QuickPay Pvt Ltd এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে একটি AASHVAST সাইবার ল্যাবরেটরি চালু করা হয়েছে। দেশের আরও অন্তত পাঁচটি জায়গায় এই ধরনের ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মূল নজর থাকবে সামরিক কাজে ব্যবহৃত ড্রোনের উপর। পরবর্তী পর্যায়ে সেনার কেনা CCTV ক্যামেরাও এই পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে।

Advertisements

সাধারণভাবে কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের নিরাপত্তা যাচাই করার ক্ষেত্রে তার দৃশ্যমান হার্ডওয়্যার বা উপাদান পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু AASHVAST-এর বিশেষত্ব হল, এটি শুধু কোনও যন্ত্রের বাইরে থেকে দেখা অংশ নয়, তার ভিতরে থাকা ফার্মওয়্যার এবং এমবেডেড সিস্টেমও বিশ্লেষণ করতে পারবে। অর্থাৎ কোনও ড্রোনের সফটওয়্যার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে এমন কোনও গোপন নির্দেশ, কোড বা দুর্বলতা রয়েছে কি না, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৪ ধরনের সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন লুকানো কোড বা কমান্ড, যা কোনও ড্রোনের কাজের ধরন বদলে দিতে পারে বা সেটিকে অচল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠা ত্রুটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কোনও ড্রোনকে নির্দিষ্ট এলাকার কাছে পৌঁছনোর পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে তার কার্যক্ষমতা ব্যাহত করা বা মিশন অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ার মতো ঝুঁকিও পরীক্ষার আওতায় থাকবে।

এছাড়াও ড্রোনের ফার্মওয়্যারে গোপন পাসওয়ার্ড, এনক্রিপশন কী অথবা রিমোট অ্যাক্সেসের কোনও ব্যবস্থা লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। (AASHVAST)সামরিক ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও দুর্বলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ড্রোনের নিয়ন্ত্রণে সামান্য সমস্যা তৈরি হলেও তার প্রভাব গোয়েন্দা নজরদারি থেকে শুরু করে অপারেশনাল মিশন পর্যন্ত পড়তে পারে।

চিনা উৎসের উপাদান নিয়ে উদ্বেগই এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ভারতের পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক ড্রোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের উৎস ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা এবং তথ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভারত ইতিমধ্যেই দেশীয় সামরিক ড্রোন নির্মাতাদের ক্ষেত্রে চিনা উৎসের কিছু উপাদান ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ২০২৫ সালে Army Design Bureau প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে UAV-তে চিনা উৎসের উপাদান ধীরে ধীরে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি কাঠামোও জমা দিয়েছিল।

AASHVAST ল্যাবরেটরিগুলি সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কোনও যন্ত্রাংশ কোথা থেকে কেনা হয়েছে, শুধু সেটাই নয়, তার প্রকৃত উৎস কী এবং তার ভিতরে কী ধরনের প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার রয়েছে, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলের পাশাপাশি ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও পরীক্ষার আওতায় আসবে।

Advertisements