লাভ জিহাদ! গুয়াহাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, প্রেমিক আটক

গুয়াহাটি: অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে এক হোমস্টের কাছে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Gauhati University) এক তরুণী ছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২২ বছর বয়সি নিমিশা ঠাকুরিয়াকে শনিবার ভোরে…

guwahati-university-student-nimisha-thakuria-death-boyfriend-detained-investigation

গুয়াহাটি: অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে এক হোমস্টের কাছে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Gauhati University) এক তরুণী ছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২২ বছর বয়সি নিমিশা ঠাকুরিয়াকে শনিবার ভোরে গারাল এলাকায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্তে তাঁর পরিচিত যুবক আসিফ আলিকে আটক করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয় এবং পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে।

Advertisements

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার আজারা এলাকায় জাতীয় সড়ক ১৭ অবরোধ করে একটি হিন্দু যুব সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুলিশও জানিয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট কারণ ধরে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে না এবং সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

   

ভোরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার

নিমিশা ঠাকুরিয়া গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছরের ইন্টিগ্রেটেড কোর্সের সমাজবিদ্যার ছাত্রী ছিলেন। তিনি ধারাপুরের বাসিন্দা এবং পরিবারের বড় মেয়ে ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনজন যুবক তাঁকে সেখানে নিয়ে এসেছিলেন। পরে তাঁকে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এই ঘটনায় আসিফ আলিকে আটক করেছে। প্রায় ২৬ বছর বয়সি আসিফ নিমিশার পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মুসলিম ল অনুসারে বিয়ে হলেও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গে POCSO! রায় দিল্লি হাইকোর্টের

Advertisements

আত্মহত্যার দাবি, তবে পুলিশের সন্দেহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

পুলিশের কাছে আসিফ দাবি করেছেন, নিমিশা হোমস্টের ঘরে সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। গুয়াহাটি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, আসিফের এই বক্তব্য পুলিশ যাচাই করছে এবং কোনও প্রমাণ ছাড়া তাঁর বক্তব্য মেনে নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই মৃত্যুর ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

মায়ের সঙ্গে শেষ ফোনালাপ নিয়ে পরিবারের দাবি

নিমিশার পরিবারের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হস্টেলে বন্ধুদের সঙ্গে থাকবেন। পরে তিনি ধারাপুরের একটি হোমস্টেতে যান বলে পরিবার জানতে পারে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তাঁর মাকে ফোন করেন। সেই ফোনে তিনি শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান বলে পরিবারের দাবি। কিছুক্ষণ পর ফোনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবার বিষয়টি আজারা পুলিশকে জানালে পুলিশ খোঁজ শুরু করে। পরে গারাল এলাকায় নিমিশাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ১০ শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে ভারত! আশাবাদী সীতারামন

হোমস্টে সিল করল পুলিশ

নিমিশা এবং আসিফ যে হোমস্টেতে ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেটি ‘রুদ্রাস কিচেন’ নামে পরিচিত। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন বই, সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করেছে। অতিথিদের নথিপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম বা ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীরা হোমস্টেতে তাঁদের থাকার সময়কার ঘটনাক্রমও খতিয়ে দেখছেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

‘লাভ জিহাদ’ অভিযোগে জাতীয় সড়ক অবরোধ

নিমিশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার আজারা এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু যুব সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সড়ক ১৭ অবরোধ করেন। এই রাস্তা গুয়াহাটি বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ওই অভিযোগকে পুলিশের প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলের অপেক্ষা

এই মুহূর্তে নিমিশা ঠাকুরিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। আসিফের আত্মহত্যার দাবি, পরিবারের তরফে নির্যাতনের অভিযোগ এবং মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার তথ্য, সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, হোমস্টের নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোবে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুকে হত্যা বা আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। নিমিশার পরিবার তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisements