তামিলনাড়ু বিধানসভা মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে। (NEET abolition)প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে স্নাতক চিকিৎসা কোর্সে ভর্তির জন্য অভিন্ন ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট পরীক্ষা বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার চায়, ভর্তি যেন শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে হয়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে জি অরুণরাজ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, নিট সামাজিক ন্যায়, সমতা এবং রাজ্যের অধিকারের পরিপন্থী। এটি গ্রামীণ, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তামিল মাধ্যমের শিক্ষার্থীরাও এর কারণে অসুবিধায় পড়ছেন। একদিনের পরীক্ষা দিয়ে বারো বছরের স্কুল শিক্ষার মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিটের কারণে (NEET abolition)কোচিং সেন্টারের সংখ্যা বেড়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাঠ্যক্রম বাদ দিয়ে কোচিংয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং তরুণদের জীবনহানির মতো ঘটনাগুলোও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়।ডিএমকে, এআইএডিএমকে, বামদল এবং পিএমকে প্রস্তাবের সমর্থন করে।
একমাত্র বিজেপি বিধায়ক বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করেন। এভাবেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরে নিটের বিরোধিতা করে আসছে। আগের ডিএমকে সরকারও একই দাবি জানিয়েছিল এবং আইন পাস করেছিল। তবে সেটি কেন্দ্রীয় অনুমোদন পায়নি।বর্তমানে সিনেমা অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এই দাবিকে আবার সামনে এনেছে।
আরও দেখুনঃ অগ্নি-৫ র সাফল্যের পর এবার শত্রুর বুকে কাঁপন ধরাতে প্রস্তুত হচ্ছে ১০০০০ পাল্লার অগ্নি- ৬
তাঁরা বলছেন, রাজ্যের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিট (NEET abolition)বাতিল করা জরুরি। কেন্দ্রীয় আইন সংশোধন করে রাজ্যকে দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।নিটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। একদিকে এটি অভিন্ন মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বলে কেন্দ্র ও সমর্থকরা মনে করেন। অন্যদিকে তামিলনাড়ুসহ কিছু রাজ্য বলছে, এটি গ্রামীণ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধাজনক।
কোচিং নির্ভরতা বাড়িয়ে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করছে।তামিলনাড়ু সরকারের এই পদক্ষেপ আবারও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং শিক্ষায় রাজ্যের অধিকার নিয়ে আলোচনা উসকে দেবে। প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এটিকে বিবেচনা করতে পারে বা নাও করতে পারে। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি রাজ্যের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
