নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও অগ্নি (Agni-6)সিরিজের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৬ নিয়ে কাজ করছে। এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম হিসেবে পরিচিত হওয়ার কথা। বর্তমানে এর নকশা পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত সম্প্রতি বলেছেন, সরকার অনুমোদন দিলেই তারা পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও পরীক্ষা শুরু করতে প্রস্তুত।
অগ্নি-৬-এর (Agni-6)প্রত্যাশিত পাল্লা ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এতে একাধিক ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা থাকবে, যা এমআইআরভি প্রযুক্তি নামে পরিচিত। অর্থাৎ একটা ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আলাদা আলাদা ওয়ারহেড পাঠানো যাবে। এছাড়া ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল বা মার্ভ প্রযুক্তিও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
আরও দেখুনঃ ১০০% মার্কিন শুল্ক-মুসলিম ন্যাটোর চাপেই FCRA নিয়ে সুর নরম মোদী সরকারের ?
ভারতের বর্তমানে সবচেয়ে দূরপাল্লার অপারেশনাল ক্ষেপণাস্ত্র হল অগ্নি-৫। এর পাল্লা পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি। অগ্নি-৫ ইতিমধ্যে এমআইআরভি প্রযুক্তিসহ সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। অগ্নি-৬ সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো অগ্নি-৬-এর কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা হয়নি। সাম্প্রতিক কিছু পরীক্ষা অগ্নি সিরিজের উন্নত সংস্করণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সেগুলোকে অগ্নি-৬ বলা হয়নি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগ্নি-৬ (Agni-6)সফল হলে ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। এটি শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোই নয়, দূরবর্তী অঞ্চলগুলোকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারবে। তবে ‘পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম’ এমন দাবি এখনো নিশ্চিত নয়। পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অধিকাংশ স্থান কভার করতে পারলেও লঞ্চ পয়েন্ট এবং ট্র্যাজেক্টরির ওপর নির্ভর করে সব জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।
আরও দেখুনঃ ছাত্রদের বিধানসভা অভিযানে লাঠি! আজ ঝাড়খণ্ড বনধের ডাক বিজেপির
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। অগ্নি-১ থেকে অগ্নি-৫ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়েছে। অগ্নি-৬ সেই ধারাবাহিকতার অংশ। ডিআরডিও বলছে, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন শুধু সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষা। অনুমোদন পেলে প্রোটোটাইপ তৈরি ও ফ্লাইট টেস্ট শুরু হতে পারে।
