নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট জাতিগত শব্দ ব্যবহারের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ (caste abuse)মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যদি কোনো জাতিগত গালি বা অপমানজনক কথা এমন পরিবেশে বলা হয় যা ‘পাবলিক ভিউ’ বা জনসমক্ষে নয়, তাহলে সেই কথা আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এই রায়ের মাধ্যমে একটি স্কুল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত বলেছে, ওই ঘটনায় ‘পাবলিক ভিউ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।এই রায় জাতিগত নির্যাতন সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ভারতে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার নিবারণ) আইনে জাতিগত অপমান বা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শুধু জাতিগত শব্দ ব্যবহার করলেই অপরাধ গঠিত হয় না।
আরও দেখুনঃ দোকানে গেলেই আর মিলবে না সিম কার্ড! কানেকশনের সংখ্যা নিয়ে কড়াকড়ি কেন্দ্রের
সেই শব্দ বা কথা অবশ্যই জনসমক্ষে বা এমন পরিবেশে উচ্চারিত হতে হবে (caste abuse)যেখানে অন্যরা শুনতে বা দেখতে পায়। যদি কথাটি ব্যক্তিগত পরিসরে বা এমন জায়গায় বলা হয় যেখানে জনসাধারণের উপস্থিতি নেই, তাহলে সেটি আইনের ধারায় ধরা পড়বে না।মামলাটি ছিল এক স্কুল ম্যানেজারকে নিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি জাতিগত অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট খতিয়ে দেখেছে যে, ওই কথোপকথন বা ঘটনা এমন পরিবেশে ঘটেনি যা জনসমক্ষে বলা যায়।
ফলে আদালত মামলাটি বাতিল করে দিয়েছে। (caste abuse)এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় মামলা কমে আসতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।জাতিগত বৈষম্য ও অপমানের ঘটনা দেশে এখনও একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। অনেক সময় ব্যক্তিগত ঝগড়া বা বিরোধকে জাতিগত রং দিয়ে মামলা করা হয়। এতে আইনের অপব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সেই অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।
আরও দেখুনঃ অ্যাকশন মোডে NIA! গ্রেফতার অস্ত্রপাচার করা পলাতক ভৈরব ত্রিপাঠী
আদালত বলেছে, আইনের উদ্দেশ্য হল সত্যিকারের অত্যাচার ও (caste abuse)জনসমক্ষে অপমানের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু ব্যক্তিগত কথোপকথনে উচ্চারিত শব্দকে আইনের আওতায় নিয়ে এলে তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়।এই রায়ের পর এখন পুলিশ ও নিম্ন আদালতগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো অভিযোগ এলে প্রথমেই দেখতে হবে যে, ঘটনাটি সত্যিই জনসমক্ষে ঘটেছে কি না। সাক্ষী, পরিবেশ, সময় ও স্থানের বিবরণ খতিয়ে দেখতে হবে। শুধু অভিযোগকারীর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে মামলা নথিভুক্ত করলে তা পরে খারিজ হয়ে যেতে পারে।
