আগামী ৪-৫ বছরে পূর্ব রেলওয়েতে ১২ হাজার কোটির প্রকল্প অনুমোদন কেন্দ্রের

কলকাতা: পূর্ব রেলওয়ে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ১২ হাজার (Eastern Railway)কোটি টাকার বিশাল সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রেল নেটওয়ার্কের…

eastern-railway-12000-crore-project

কলকাতা: পূর্ব রেলওয়ে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ১২ হাজার (Eastern Railway)কোটি টাকার বিশাল সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রেল নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে, যাতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল আরও মসৃণ ও দ্রুত হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ৫৬৩ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণে।

Advertisements

বাকি ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে ১০টি বাইপাস প্রকল্পের জন্য।এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো রুট ক্যাপাসিটি বাড়ানো। বর্তমানে অনেক রুটে ট্রাফিকের চাপ অত্যধিক। ফলে ট্রেন দেরি হয়, মালপত্র পরিবহনে সময় লাগে এবং যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন লাইন সম্প্রসারণ ও বাইপাস তৈরি হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে। ট্রেনগুলো আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্নে চলতে পারবে।

   

আরও দেখুন: দেশে প্রথম! কলকাতা মেট্রোয় ‘কবচ’, কী কী সুবিধা যাত্রীদের?

পূর্ব রেলওয়ের নেটওয়ার্ক বাংলাসহ পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। (Eastern Railway)বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর, মালদহসহ বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক অঞ্চল এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। নতুন সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হলে শিল্পকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বাজার ও বন্দরের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। মালপত্র পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

Advertisements

উচ্চ রেল সক্ষমতা লজিস্টিকস খরচ কমাতে সাহায্য করে। (Eastern Railway)বর্তমানে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সড়কপথে মাল পরিবহন করে, যা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। রেলপথে ধারণক্ষমতা বাড়লে তারা সহজেই রেল ব্যবহার করতে পারবেন। এতে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও দক্ষ হবে। উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাবে এবং কাঁচামালও সময়মতো কারখানায় পৌঁছাবে। ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং প্রতিযোগিতায় ভারতীয় শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

আরও দেখুন: যাদবপুরে ধুন্ধুমার! বোতল-পাথর বৃষ্টি, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা ABVP-SFI-এর

বাংলার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। (Eastern Railway)রাজ্যের শিল্প বেল্টগুলো যেমন দুর্গাপুর-আসানসোল অঞ্চল, হাওড়ার শিল্প এলাকা বা উত্তরবঙ্গের চা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন কেন্দ্র রেল সংযোগের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নতুন লাইন ও বাইপাস তৈরি হলে এই অঞ্চলগুলোর সঙ্গে অন্যান্য রাজ্য ও বন্দরের সংযোগ উন্নত হবে।

কয়লা, স্টিল, সিমেন্ট, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবহন আরও দক্ষ হবে।বাইপাস প্রকল্পগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্টেশন ও জংশনে ট্রেন আটকে থাকে। বাইপাস তৈরি হলে দূরপাল্লার ট্রেনগুলো সরাসরি চলে যেতে পারবে, স্থানীয় ট্রেনগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ কমবে। এতে যাত্রী ও মালবাহী উভয় পরিষেবার মানই উন্নত হবে।

Advertisements