নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন(Giorgia Meloni)। মেলোনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা নেতা হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ১ হাজার ৪১৩ দিন অফিসে থেকে সিলভিও বেরলুসকোনির আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।
মোদী এই অর্জনকে ইতালিয়ান জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।মেলোনি ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার সরকার কোনো বড় সংকট ছাড়াই টিকে আছে, যা ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। দেশটিতে যুদ্ধোত্তর সময়ে প্রায় ৬৮টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মেলোনির স্থিতিশীলতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মোদী তার বার্তায় বলেছেন, এই মাইলফলক ইতালিয়ান জনগণের নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই প্রমাণ।
আরও দেখুনঃ কনফার্ম টিকিটের টোপ দিয়ে স্টেশনের ঘরেই যাত্রীকে ‘ধর্ষণ’! কাঠগড়ায় খোদ রেলকর্মী
প্রধানমন্ত্রী মোদী মেলোনিকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ভারত-ইতালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। মোদী আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতেও দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মেলোনি ও মোদীর সম্পর্ক আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। (Giorgia Meloni)দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সখ্যতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে মোদী ইতালি সফর করেছিলেন। সেই সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত করা হয়। প্রতিরক্ষা শিল্প রোডম্যাপ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সহযোগিতা এবং অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দুই নেতা যৌথভাবে ইন্দো-মেডিটেরেনিয়ান অঞ্চলে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।ইতালির রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের কারণে নীতি বাস্তবায়ন ব্যাহত হতো। মেলোনির সরকার সেই ধারাকে ভেঙেছে। তার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সংস্কার, অভিবাসন নীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
এই অর্জনকে তার দল ফ্রাটেলি দ’ইতালিয়া উদযাপন করছে।মোদীর অভিনন্দন বার্তা শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, দুই নেতার পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার প্রতিফলন। ভারত ও ইতালি উভয় দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ বাড়ছে। মেলোনির নেতৃত্বে ইতালি ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
