শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে আবারও কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের ওপর নতুন হুমকির ছায়া (Kashmiri Pandit)। লস্কর-এ-তৈয়বার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল বা ইউএলসি অনলাইনে হুমকিমূলক বার্তা প্রচার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্যাকেজের আওতায় উপত্যকায় কর্মরত প্রায় সাত হাজার অভিবাসী কশ্মীরি পণ্ডিত কর্মচারীকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা ও গাড়ির নম্বর প্রকাশ করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযোগ।ইউএলসির বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই কর্মচারীদের আত্মরক্ষার জন্য হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা ভাবলেও চলবে না। তারা দাবি করেছে, এমন ব্যবস্থা নিলে পণ্ডিতরা পাল্টা বিদ্রোহ দমনের হাতিয়ারে পরিণত হবে।
আরও দেখুনঃ ঘুরে দাঁড়াল ইসরো! মহাকাশে ভারতের নতুন ‘চোখ’ নিয়ে সফল ভাবে পাড়ি দিল ‘নটি বয়’
এই যুক্তি আসলে সম্প্রদায়টিকে নিরস্ত্র ও সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফ-এর সঙ্গেও এ ধরনের প্রচার চলছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। একে মানসিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য ভয় ছড়িয়ে সম্প্রদায়টিকে উপত্যকা থেকে সরিয়ে দেওয়া।১৯৯০-এর দশকে কশ্মীরি পণ্ডিতদের জাতিগত নিধন ও বিতাড়নের ইতিহাস এখনো কাঁচা ক্ষতের মত।
সেই সময় হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। (Kashmiri Pandit)সরকারি পুনর্বাসন প্যাকেজের মাধ্যমে অনেকে কাজের সুযোগ নিয়ে উপত্যকায় ফিরেছেন। কিন্তু বারবার এমন হুমকি তাদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি প্রচারিত পোস্টারে কিছু কর্মচারীর ব্যক্তিগত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনো এত বিস্তারিতভাবে দেখা যায়নি। এতে পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।অল পিএম প্যাকেজ এমপ্লয়িজ ফোরাম জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
তারা কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান ও যাতায়াত পথে নজরদারি জোরদার করার আবেদন করেছে। প্রশাসন ইতিমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অনেক কর্মচারীকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই হুমকিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি হালকাভাবে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, লস্কর-এ-তৈয়বার মত সংগঠনগুলো সরাসরি অপারেশন চালাতে না পেরে এখন অনলাইন প্রক্সি ব্যবহার করে ভয় ছড়াচ্ছে। (Kashmiri Pandit)পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলাররা এই মানসিক যুদ্ধের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।কশ্মীরি পণ্ডিত নেতারা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতায় তারা আবারও একঘরে হয়ে পড়ছেন।
কেউ কেউ আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রের অনুমতি চেয়েছেন, যেমন জম্মুতে গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটিগুলোতে দেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গি সংগঠনগুলো সেই সম্ভাবনাকেই প্রতিহত করতে চাইছে। তারা বলছে, অস্ত্র দেওয়া মানে পণ্ডিতদেরকে যুদ্ধের হাতিয়ার বানানো। এই যুক্তি সম্প্রদায়টিকে নিরস্ত্র রেখে সহজে লক্ষ্যবস্তু বানানোরই কৌশল।
