কলকাতা: ভারতে কর্মক্ষেত্রে বেতনবিহীন অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ADP Research-এর People at Work 2026 রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ৩৬টি বাজারের মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন।
২০২৫ সালে করা এই সমীক্ষায় ৩৬টি বাজারের ৩৯,০০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ২৪ শতাংশ কর্মী প্রতি সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত কাজ করেন, যার জন্য আলাদা পারিশ্রমিক পান না।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মীই সপ্তাহে অন্তত ৬ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন
ভারতে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা কর্মীর হার ২৪ শতাংশ। পাশাপাশি আরও ৪০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ভারতের প্রায় ৬৪ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে অন্তত ৬ ঘণ্টা বেতনবিহীন অতিরিক্ত কাজ করেন। ADP-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, নির্ধারিত বেতনভুক্ত কাজের সময়ের বাইরে কাজ করাকেই unpaid work হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে লাঞ্চ ব্রেকে কাজ করা, অফিসের নির্ধারিত সময়ের পরেও কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত সময় কাজ করার মতো বিষয় রয়েছে।
বিশ্বের চিত্র ভারতের তুলনায় অনেকটাই আলাদা
বিশ্বের সামগ্রিক চিত্র ভারতের তুলনায় কম চরম। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ কর্মী ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা এবং মাত্র ১২ শতাংশ কর্মী ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি unpaid work-এর ক্ষেত্রে ভারতের ২৪ শতাংশের হার বিশ্বব্যাপী ১২ শতাংশের দ্বিগুণ।
তুরস্ক, অস্ট্রিয়া ও আমেরিকাও পিছিয়ে
এই তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে তুরস্ক, যেখানে ২৩ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। এরপর রয়েছে অস্ট্রিয়া ২১ শতাংশ এবং আমেরিকা ২০ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম হার দেখা গেছে চেক প্রজাতন্ত্রে। সেখানে মাত্র ৪ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি unpaid work করার কথা জানিয়েছেন। চীন ও তাইওয়ানে এই হার ৬ শতাংশ করে, জাপানেও ৬ শতাংশ।
পদ যত উঁচু, অতিরিক্ত কাজের প্রবণতাও বেশি
রিপোর্টে দেখা গেছে, কর্মীর অর্গানাইজেশনাল স্তর বা পদমর্যাদা unpaid work-এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কযুক্ত। উচ্চপদস্থ ম্যানেজার এবং সিনিয়র নেতৃত্বের মধ্যে অর্ধেক কর্মী সপ্তাহে অন্তত ৬ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত কাজ করেন। অন্যদিকে individual contributor পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ সপ্তাহে অন্তত ৬ ঘণ্টা unpaid work করেন এবং মাত্র ৯ শতাংশ ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন।
বাড়ি থেকে কাজ করলেও কমছে না অতিরিক্ত কাজ
কাজের জায়গাও এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত। রিমোট কর্মীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। হাইব্রিড এবং অফিসে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ১২ শতাংশ করে। অর্থাৎ, বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা থাকলেও কাজের নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না।
বেশি unpaid work মানেই বেশি productivity নয়
ADP-এর রিপোর্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বেতনবিহীন অতিরিক্ত কাজের সময় বাড়লেই কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়ে না। বরং unpaid hours যত বাড়েছে, নিজেদের প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় কম productive বলে মনে করা কর্মীর হারও বেড়েছে। এই প্রবণতা বিশেষ করে সিনিয়র ম্যানেজার এবং C-suite পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশি দেখা গেছে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং কার্যকরভাবে কাজ করার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বাড়ছে stress, কমছে কর্মক্ষেত্রে ভালো থাকার অনুভূতি
অতিরিক্ত unpaid work-এর সঙ্গে কর্মীদের stress-এর মাত্রাও বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বেশি সময় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে “thriving” বা ভালো থাকার অনুভূতিও তুলনামূলক কম জানিয়েছেন। তবে এর মধ্যে একটি বিপরীত চিত্রও রয়েছে। সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি unpaid work করা কর্মীরা একদিকে বেশি stress-এর কথা বললেও, তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে কাজে engaged থাকার হার বেশি এবং নিজেদের কাজের মধ্যে অর্থ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার প্রবণতাও বেশি।
চাকরি বদলের চিন্তাও বাড়ছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল, অতিরিক্ত unpaid work-এর সঙ্গে নতুন চাকরি খোঁজার প্রবণতাও বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে executives এবং upper managers-এর ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট। অর্থাৎ, কোনও কর্মী নিজের কাজে অত্যন্ত engaged বা committed হলেও, অতিরিক্ত কাজের চাপ তাঁকে চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবা থেকে বিরত রাখছে না।
ফলে ADP-এর রিপোর্টে যে ছবিটি উঠে এসেছে, তাতে দীর্ঘ সময় কাজ করা সবসময় বেশি engagement বা productivity-এর সমান নয়। বরং অতিরিক্ত বেতনবিহীন কাজ একদিকে কাজের প্রতি commitment বাড়াতে পারে, আবার অন্যদিকে stress, কম কর্মক্ষেত্রের wellbeing এবং চাকরি পরিবর্তনের ইচ্ছাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
