উৎসবের মরশুমে অনলাইন এবং অফলাইন বাজারে (Festive Shopping) একের পর এক আকর্ষণীয় অফার দেখা যায়। মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা পণ্য কেনার সময় ক্রেতাদের সামনে থাকে বিভিন্ন পেমেন্টের বিকল্প। কেউ পুরো টাকা একবারে দিয়ে কেনেন, কেউ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, আবার কেউ নো-কস্ট ইএমআইয়ের সুবিধা নেন।
তবে কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপনে দেওয়া দাম বা ডিসকাউন্ট দেখেই সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে। একই পণ্য কেনার ক্ষেত্রে পেমেন্টের পদ্ধতি বদলালে চূড়ান্ত খরচও বদলে যেতে পারে। তাই উৎসবের কেনাকাটার আগে শুধু ছাড় নয়, প্রসেসিং ফি, সুদ, জিএসটি এবং ব্যাঙ্কের অন্যান্য শর্তও দেখে নেওয়া জরুরি।
ইউপিআই বা ডেবিট কার্ডে পুরো টাকা দেওয়া
ক্রেতার হাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকলে ইউপিআই, ডেবিট কার্ড বা সরাসরি নগদে পুরো টাকা মিটিয়ে দেওয়া সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। এতে মাসিক কিস্তি, সুদ বা ভবিষ্যতের বিল নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তবে এই পদ্ধতির একটি সুযোগ-খরচ রয়েছে। উৎসবের সময় অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট দেয়। ফলে পুরো টাকা সরাসরি দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে।
এছাড়া কোনও বড় পণ্য কেনার জন্য একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করলে হাতে থাকা জরুরি সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে কেনাকাটার পর হঠাৎ কোনও জরুরি খরচ এলে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা
উৎসবের সেলের সময়ে ক্রেডিট কার্ড অনেকের কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের পুরো বিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারলে এই পদ্ধতিতে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং ব্যাঙ্কগুলি অনেক সময় সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অফার দেয়। যোগ্য কার্ডে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট এবং রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে।
ধরা যাক, ৫০,০০০ টাকা দামের কোনও পণ্যে ৫ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২,৫০০ টাকা ছাড় পাওয়ার পর ক্রেতাকে দিতে হবে ৪৭,৫০০ টাকা। ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় হল ক্যাশ-ফ্লো সুবিধা। কেনাকাটার সময় সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যায় না। নির্ধারিত বিলের তারিখ পর্যন্ত সেই টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখা সম্ভব। তবে এই সুবিধা তখনই কার্যকর, যখন ক্রেডিট কার্ডের পুরো বিল সময়মতো মেটানো যায়।
পুরো বিল না দিলে খরচ দ্রুত বাড়তে পারে
ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করা। শুধু ন্যূনতম টাকা দিয়ে বাকি অর্থ পরের মাসে নিয়ে গেলে সুদের বোঝা দ্রুত বাড়তে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বকেয়া ক্রেডিট কার্ডের উপর বার্ষিক ৩৬ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ ধার্য হতে পারে। ফলে উৎসবের সময়ে পাওয়া কয়েক হাজার টাকার ডিসকাউন্টও পরবর্তীতে সুদের খরচে মুছে যেতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার আগে নিজের পরিশোধ ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নো-কস্ট ইএমআই কি সত্যিই বিনা খরচের?
নো-কস্ট ইএমআইয়ের নাম শুনে অনেক ক্রেতা মনে করেন, পণ্যের দাম ছাড়া আর কোনও খরচ নেই। বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এতটা সরল নয়। নো-কস্ট ইএমআইয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা অনেক সময় এমন ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা পুরো টাকা একবারে পরিশোধ করলে পাওয়া যেত। এর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক সাধারণত একটি নন-রিফান্ডেবল প্রসেসিং ফি নিতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ফি সাধারণত ১৯৯ টাকা থেকে ২৯৯ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে সুদের অংশের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটিও যোগ হতে পারে।
ফলে নো-কস্ট ইএমআই নেওয়ার আগে শুধু মাসিক কিস্তির পরিমাণ দেখলে হবে না। মোট কত টাকা শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে, সেটিও হিসাব করতে হবে।
৫০,০০০ টাকার পণ্যে পার্থক্য কতটা
ধরা যাক, কোনও পণ্যের দাম ৫০,০০০ টাকা। পুরো পেমেন্টে ৫ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট পাওয়া গেলে দাম নেমে আসবে ৪৭,৫০০ টাকায়। অন্যদিকে একই পণ্য নো-কস্ট ইএমআইয়ের মাধ্যমে কিনলে প্রসেসিং ফি এবং সুদের অংশের উপর জিএসটির কারণে কার্যকর খরচ ৫০,৬০০ টাকার বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একই পণ্যের ক্ষেত্রে পেমেন্ট পদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত খরচে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে কোন পদ্ধতি বিবেচনা করবেন
যাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে এবং কেনাকাটার পরেও জরুরি সঞ্চয় অক্ষত থাকবে, তারা পুরো টাকা একবারে দেওয়ার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের উৎসবকালীন অফারও তুলনা করে দেখতে পারেন। তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে কোনও প্রয়োজনীয় এবং বেশি দামের পণ্য কিনতে গিয়ে একবারে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা সম্ভব না হলে নো-কস্ট ইএমআই ক্যাশ-ফ্লো সামলানোর একটি উপায় হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি, জিএসটি, হারানো ডিসকাউন্ট এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ একসঙ্গে হিসাব করা জরুরি।
উৎসবের কেনাকাটায় তাই শুধু ‘কত টাকা ছাড়’ পাওয়া যাচ্ছে তা দেখলেই হবে না। পণ্যের আসল দাম, পেমেন্ট পদ্ধতি, ব্যাঙ্কের শর্ত, প্রসেসিং ফি এবং শেষ পর্যন্ত মোট কত টাকা খরচ হচ্ছে, এই সবকটি বিষয় মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
