‘বাবরওয়ালি অতীত, বাংলায় এ বার রামরাজ্য’! মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ থেকেই হুঙ্কার বাগেশ্বর বাবার

হাওড়া: একসময় বাংলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁর উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী শুধু যে সদর্পে রাজ্যে…

হাওড়া: একসময় বাংলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁর উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী শুধু যে সদর্পে রাজ্যে পা রাখলেন তা-ই নয়, প্রাক্তন সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানিয়ে সুর চড়ালেন হিন্দুত্বেরও। পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন খোদ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার হাওড়ার লিলুয়ার এই ধর্মীয় সভা কার্যত পরিণত হলো সনাতনী আস্ফালন এবং রাজনৈতিক হুঙ্কারের এক মুক্তমঞ্চে।

Advertisements

নিশানায় প্রাক্তন সরকার ও ‘রামরাজ্য’-এর বার্তা

নাম না করলেও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রতি তাঁর ক্ষোভ যে বিন্দুমাত্র প্রশমিত হয়নি, তা এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন বাগেশ্বর বাবা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে প্রচ্ছন্ন তির ছুড়ে তিনি বলেন, “একসময় আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতায় আর কোনও ‘বাবরওয়ালি’ নেই। সরকার চলছে ‘রঘুবীরওয়ালে’-র নেতৃত্বে।” তাঁর প্রত্যয়ী দাবি, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং খুব দ্রুত এখানে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। কলকাতার প্রতিটি কোণায় অচিরেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি অনুরণিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

   

অনুপ্রবেশ, ‘ঘরওয়াপসি’ এবং কড়া হুঁশিয়ারি

অনুপ্রবেশ এবং ধর্মান্তকরণ রুখতেও কড়া বার্তা শোনা গিয়েছে এই বিতর্কিত ধর্মগুরুর কণ্ঠে। যাঁরা এ দেশে থেকে পাকিস্তানের প্রশস্তি করেন, তাঁদের সরাসরি দেশছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তাঁর কথায়, “যাঁদের এ রাজ্যে থাকতে অসুবিধা হচ্ছে, তাঁরা অনায়াসে বাংলাদেশে চলে যেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আগামী দিনে সেখানেও গেরুয়া পতাকা উড়বে।”

অন্যান্য ধর্মের প্রতি তাঁর কোনও বিদ্বেষ নেই বলে দাবি করলেও, ধীরেন্দ্র স্পষ্ট জানান, যাঁরা শ্রীরামচন্দ্রকে ভুলে নিজেদের বাবরের বংশধর বলে দাবি করেন, মূল লড়াইটা তাঁদের বিরুদ্ধেই। পাশাপাশি, সীমান্ত লাগোয়া যে অঞ্চলগুলিতে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সভা করার এবং রাজ্যে হওয়া সমস্ত ধর্মান্তকরণের ক্ষেত্রে ‘ঘরওয়াপসি’ বা স্বধর্মে ফেরানোর বিশাল কর্মসূচির ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

Advertisements

ব্রিগেড সমাবেশের আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর

এ দিনের অনুষ্ঠানে আদ্যোপান্ত উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মগুরুর হাতে তিনি তুলে দেন দেবী কালীর মূর্তি ও গদা। অতীত সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার সনাতন ধর্মের প্রসার রুখতে বাগেশ্বর বাবাকে এ রাজ্যে সভা করার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু এখন বাংলায় এক আদ্যোপান্ত রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত। সনাতনী চর্চায় আর কোনও বাধা নেই।”

এই আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত করে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে এক সুবিশাল ধর্মসভা করার প্রকাশ্য আমন্ত্রণও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, লিলুয়ার এই মঞ্চ থেকে শাসক শিবির সুকৌশলে বাংলায় তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ভিত আরও মজবুত করারই বার্তা দিল।

বুদগামে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম এক জঙ্গি! জারি তল্লাশি

দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে সজোরে ধাক্কা গাড়ির, নিহত ৮ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া

Advertisements