নয়াদিল্লি: স্ক্রিনবিহীন স্মার্ট ওয়্যারেবল Luna Band এবার বিশ্ববাজারে পাওয়া যাচ্ছে। IFA ২০২৬-এ সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ফিটনেস ট্র্যাকারটির আন্তর্জাতিকভাবে শিপিং শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে CES ২০২৬-এ প্রথমবার Luna Band-এর আত্মপ্রকাশ হয়েছিল এবং জুলাই থেকেই এর প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করে সংস্থা। হার্ট রেট, SpO2, ঘুম, শরীরের তাপমাত্রা এবং বিভিন্ন ফিটনেস অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করার পাশাপাশি Luna Band-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি ব্যবহার করতে কোনও বাধ্যতামূলক সাবস্ক্রিপশন লাগে না।
ভারতে Luna Band-এর দাম কত?
Luna Band-এর দাম ভারতে ১৩,৯৯৯ টাকা। সংস্থার ভারতীয় ওয়েবসাইটে এটি বর্তমানে তালিকাভুক্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওয়্যারেবলটির দাম $১৪৯, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১৪,০০০ টাকার কাছাকাছি। ভারতে Luna Band পাওয়া যাচ্ছে তিনটি রঙে:
- Aloe Green
- Desert Beige
- Onyx Black
এর পাশাপাশি আলাদা করে অতিরিক্ত স্ট্র্যাপ কেনার সুযোগ রয়েছে। Ember Orange, Atlantic Blue এবং Glacier Blue রঙের স্ট্র্যাপ পাওয়া যাবে।
স্ক্রিন নেই, সাবস্ক্রিপশনও নেই
Luna Band-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর স্ক্রিনলেস ডিজাইন। অর্থাৎ কব্জিতে পরলেও এতে কোনও ডিসপ্লে নেই। এটি সরাসরি তথ্য দেখানোর বদলে সেন্সরের মাধ্যমে শরীর ও অ্যাক্টিভিটির তথ্য সংগ্রহ করে। ওয়্যারেবলটি কব্জি অথবা আপার আর্মে পরা যায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Luna Band ব্যবহার করতে মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন হয় না। এই দিক থেকে এটি Whoop এবং Fitbit Air-এর মতো কিছু ফিটনেস ওয়্যারেবলের থেকে আলাদা। ওই ধরনের ডিভাইসে অনেক অ্যাডভান্সড ফিচার ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন হতে পারে।
LifeOS AI প্ল্যাটফর্মে চলে Luna Band
Luna Band-এর পিছনে রয়েছে সংস্থার LifeOS AI প্ল্যাটফর্ম। এটিকে শুধু ফিটনেস ট্র্যাকার হিসেবে নয়, একটি পার্সোনালাইজড ডেইলি হেলথ কোচ হিসেবেও ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে। ব্যবহারকারীর শরীরের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। এমনকী ব্যবহারকারীর মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত তথ্যও ট্র্যাক করতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার দাবি করেছে সংস্থা।
কোন কোন স্বাস্থ্য তথ্য ট্র্যাক করে?
হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে Luna Band-এ রয়েছে মাল্টি-চ্যানেল PPG হার্ট রেট সেন্সর, ৬-অ্যাক্সিস অ্যাক্সিলেরোমিটার এবং স্কিন টেম্পারেচার সেন্সর। এই সেন্সরগুলির সাহায্যে ওয়্যারেবলটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মেট্রিক পর্যবেক্ষণ করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- হার্ট রেট
- SpO2 বা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা
- VO2 Max
- স্কিন টেম্পারেচার
- ঘুমের ধরন ও প্যাটার্ন
- বিভিন্ন শারীরিক অ্যাক্টিভিটি
- হাইড্রেশন প্রয়োজন
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ওয়ার্কআউট শনাক্ত করতে পারে
Luna Band বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অ্যাক্টিভিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দৌড়, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, বক্সিং এবং Hyrox-এর মতো কার্যকলাপ। ফলে প্রতিটি ওয়ার্কআউট আলাদা করে ম্যানুয়ালি শুরু করার প্রয়োজন কমে যায়। এছাড়া ব্যবহারকারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে দৈনিক হাইড্রেশন লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সাপ্লিমেন্ট সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার ফিচারও রয়েছে।
Apple ও Android দুই প্ল্যাটফর্মেই চলবে
Luna Band Apple এবং Android, দুই ধরনের স্মার্টফোনের সঙ্গেই পেয়ার করা যায়। ফলে iPhone এবং Android ব্যবহারকারী উভয়েই ওয়্যারেবলটি ব্যবহার করতে পারবেন। স্ক্রিন না থাকায় এর মূল অভিজ্ঞতা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ এবং LifeOS প্ল্যাটফর্মের উপর। ব্যবহারকারীর সংগৃহীত স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ডেটা সেখানেই বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করা হয়।
১০ দিন পর্যন্ত ব্যাটারি, 5 ATM জল প্রতিরোধ
ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে Luna Band একবার চার্জে ১০ দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। ওয়্যারেবলটিতে রয়েছে 5 ATM water-resistance rating। অর্থাৎ জল ও দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রার জল প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে।
১৩,৯৯৯ টাকা দামে Luna Band এমন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, যাঁরা স্ক্রিন বা নোটিফিকেশন-কেন্দ্রিক স্মার্টওয়াচের বদলে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকিংয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই হার্ট রেট, SpO2, ঘুম, VO2 Max এবং দৈনিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ট্র্যাক করার সুবিধাই Luna Band-এর অন্যতম বড় USP।
