কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার পর্যটন খাতকে নতুন করে গড়ে তুলতে (Ganga Tourism)এক বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু পর্যটক সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং তাদেরকে রাজ্যে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। এখন অনেক পর্যটক বাংলা হয়ে অন্য রাজ্যে চলে যান। সেই ধারাকে বদলাতে চায় সরকার। গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে নতুন ক্রুজ পরিষেবা, কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, অতিথি নিবাসগুলোর আধুনিকীকরণ এবং সুন্দরবন ও দার্জিলিং-এর উন্নয়ন সব মিলিয়ে এক সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল গঙ্গায় নতুন ১১টি ভেসেল চালু করা। (Ganga Tourism)বাবুঘাট থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত বিভিন্ন রিভার সার্কিট তৈরি করা হবে। দিনের ভ্রমণ থেকে শুরু করে রাত্রিযাপন করা ক্রুজ সব ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। নদীপথে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ অনেক পর্যটককেই টানবে বলে মনে করছে পর্যটন দফতর। পাশাপাশি কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পও শুরু হবে।
আরও দেখুনঃ আদানির পর এবার টাটা কেমিক্যালসকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল কেনিয়া
শহরের যানজট এড়িয়ে নদীপথে দ্রুত ও আরামে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হবেন।শুধু নদীকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নয়। রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন অতিথি নিবাসগুলোকেও আধুনিক করা হবে। সুন্দরবন থেকে শুরু করে দার্জিলিং পর্যন্ত যেসব গেস্ট হাউস আছে, সেগুলোর মান উন্নত করা হবে। পর্যটকরা যাতে আরামে থাকতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
মন্দারমণি সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ধরে রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আকৃষ্ট হন।পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতি সংরক্ষণকেও যুক্ত করা হয়েছে। সুন্দরবনে ২০ লাখ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হবে। এই বনাঞ্চল শুধু বাঘের আবাসস্থল নয়, উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করেও।
আরও দেখুনঃ ২০২৭ জুলাই থেকে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাটারি স্টোরেজ
তাই সংরক্ষণ ও পর্যটনকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। (Ganga Tourism)বক্সা টাইগার রিজার্ভে আগামী ২ অক্টোবর বাঘ ছাড়ার কর্মসূচিও রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ইকোট্যুরিজম দুই দিকই এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা। শুধু দর্শনীয় স্থান দেখিয়েই শেষ নয়। নদীভ্রমণ, রাত্রিযাপন, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
ফলে পর্যটকরা এক-দুই দিনের বদলে কয়েক দিন কাটিয়ে ফিরবেন। স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌকাচালক, গাইড অনেকের জীবিকা আরও সুরক্ষিত হবে।সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্র অনেকটাই বদলে যাবে।
গঙ্গার জলপথ নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠবে। সুন্দরবনের সবুজ আরও ঘন হবে। মন্দারমণির সৈকত আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠবে। দার্জিলিং-এর পাহাড় ও সুন্দরবনের জঙ্গল সব জায়গায় পর্যটকরা আরও বেশি সময় কাটাবেন। শুধু সংখ্যা বাড়ানো নয়, মানসম্পন্ন ও টেকসই পর্যটন গড়ে তোলার দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।
