আদানির পর এবার টাটা কেমিক্যালসকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল কেনিয়া

নাইরোবি: কেনিয়ায় ভারতীয় কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। (Tata Chemicals)প্রথমে আদানি গ্রুপের বড় প্রকল্প বাতিল হয়। এখন টাটা কেমিক্যালসকেও দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট…

tata-chemicals-kenya-exit

নাইরোবি: কেনিয়ায় ভারতীয় কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। (Tata Chemicals)প্রথমে আদানি গ্রুপের বড় প্রকল্প বাতিল হয়। এখন টাটা কেমিক্যালসকেও দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো বলেছেন, টাটা কেমিক্যালস মাগাদি দীর্ঘদিন ধরে সোডা অ্যাশ রফতানি করছে কিন্তু স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত অবদান রাখেনি। তিনি কোম্পানিকে ‘প্যাক করে চলে যেতে’ বলেছেন।

Advertisements

টাটা কেমিক্যালস ২০০৫ সাল থেকে কেনিয়ার লেক মাগাদিতে সোডা অ্যাশ উৎপাদন করছে (Tata Chemicals)। এটি আফ্রিকার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সোডা অ্যাশ উৎপাদক। কোম্পানি বছরে লাখ লাখ টন সোডা অ্যাশ রফতানি করে। রুতো অভিযোগ করেছেন, শত বছরের মতো চুক্তি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে কাচ বা রাসায়নিক কারখানা গড়ে তোলা হয়নি। সম্পদ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে কিন্তু কাজের সুযোগ ও শিল্প গড়ে উঠছে না।

   

আরও দেখুনঃ বুদগামে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম এক জঙ্গি! জারি তল্লাশি

তিনি নতুন বিনিয়োগকারী এনে স্থানীয় কারখানা স্থাপনের কথা বলেছেন।এর আগে আদানি গ্রুপের নাইরোবি বিমানবন্দর আধুনিকায়ন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্প বাতিল হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় বিরোধিতা ও আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা কাজ করেছিল। এখন টাটার ঘটনায়ও একই ধরনের আলোচনা উঠেছে। কেউ কেউ একে কাকতালীয় বলছেন। আবার কেউ ভারতের আফ্রিকায় উপস্থিতি নিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

Advertisements

ভারত আফ্রিকায় বহুদিন ধরে বিনিয়োগ করছে। (Tata Chemicals)কেনিয়ায় প্রায় দুই শতাধিক ভারতীয় কোম্পানি কাজ করে। ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিকম, অটোমোবাইল ও পরিকাঠামো খাতে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও বাড়ছে। তবে সম্পদ রফতানি ও স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিয়ে আফ্রিকান দেশগুলোতে চাপ বাড়ছে। স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও শিল্প গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে।

টাটা কেমিক্যালস জানিয়েছে, তারা কেনিয়ার নিয়ম মেনে চলেছে। জুলাইয়ে খনি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর সব নথি জমা দিয়েছে এবং সরকারের পর্যালোচনার অপেক্ষায় আছে। কোম্পানি আইনি ও নিয়ন্ত্রক পথে সমস্যার সমাধান চায়। কর্মী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার কথাও বলেছে।আফ্রিকার সম্পদ, কৌশলগত রুট ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা চলছে। চিন , ইউরোপ ও অন্যান্য দেশেরও উপস্থিতি রয়েছে।

ভারতের কোম্পানিগুলো যদি চাপে পড়ে তবে স্থানীয় অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। (Tata Chemicals)কেনিয়া সরকার স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার নীতি নিয়ে এগোচ্ছে বলে দাবি করছে।এই ঘটনাগুলো ভারত-আফ্রিকা সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরছে। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতি ও জনমত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টাটা ও আদানির অভিজ্ঞতা অন্যান্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। স্থানীয় অংশীদারিত্ব ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

Advertisements