মুম্বই: এ বছরের উৎসবের মরশুমে দালাল স্ট্রিটে বড়সড় চমক আনতে পারে মুকেশ আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্মস। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় IPO (Jio IPO) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের টেলিকম, ডিজিটাল ও প্রযুক্তি শাখা জিও প্ল্যাটফর্মস। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩৭,৮০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাজারে আসতে পারে এই IPO।
ভারতের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় IPO হল হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া-র প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা টাকার শেয়ার বিক্রি। অন্যদিকে বহু প্রতীক্ষিত NSE IPO থেকে প্রায় ৩১,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ হতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। সেই হিসেবে জিও-র সম্ভাব্য IPO দেশের IPO বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে।
নবরাত্রি, না হলে দীপাবলির সময় IPO
The Economic Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিকে, বিশেষ করে নবরাত্রির শুভ দিনগুলিকে সামনে রেখে IPO আনার সম্ভাবনাই বেশি। এ বছর নবরাত্রি চলবে ১১ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর। যদি অক্টোবরের শেষ দিকে IPO বাজারে আনা সম্ভব না হয়, তাহলে পরিকল্পনা গড়াতে পারে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। সেক্ষেত্রে দীপাবলির সময়কে লক্ষ্য করা হতে পারে। এ বছর ধনতেরস ৬ নভেম্বর এবং দীপাবলি ৮ নভেম্বর পালিত হবে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই IPO-র চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করতে পারে জিও। এরপর বিদেশে শুরু হতে পারে সংস্থার রোডশো, যেখানে সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামনে IPO-র পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে Roadshow
জিও-র IPO নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আগামী সপ্তাহ থেকেই রোডশো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি চলতি বছরের জুনে IPO-র Draft Red Herring Prospectus (DRHP) জমা দিয়েছিল। এরপর ২৮ আগস্ট Securities and Exchange Board of India (SEBI)-এর কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন পেয়েছে। ফলে এখন মূলত ইস্যুর সময়, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য চূড়ান্ত বিষয় নির্ধারণের দিকেই নজর রয়েছে।
২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা
DRHP অনুযায়ী, Jio Platforms সর্বোচ্চ ২৭ কোটি নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু করতে পারে। IPO-র পর সংস্থার মোট ইক্যুইটি ক্যাপিটালের প্রায় ২.৯ শতাংশ হবে এই নতুন শেয়ার। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত IPO-তে Offer for Sale বা OFS থাকছে না। অর্থাৎ বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ তুলবেন না। মূলত নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমেই মূলধন সংগ্রহ করবে Jio Platforms। এই IPO-র মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ গোষ্ঠীর কোনও বড় সংস্থার নতুন IPO বাজারে আসতে চলেছে। গোষ্ঠীর শেষ IPO ছিল Reliance Petroleum, যা ২০০৬ সালে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।
IPO-র টাকা কোথায় ব্যবহার করবে জিও?
Jio Platforms-এর IPO থেকে পাওয়া অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যবহার করা হবে ঋণ পরিশোধে। DRHP অনুযায়ী, IPO থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে Reliance Jio Infocomm (RJIL)-এর নেওয়া সর্বোচ্চ ২৭,৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ আগাম পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। RJIL হল Jio Platforms-এর একটি অপারেটিং সাবসিডিয়ারি। বাকি অর্থ ব্যবহার করা হবে সাধারণ কর্পোরেট কাজে।
DRHP-তে বলা হয়েছে, Jio Platforms বিভিন্ন উপায়ে RJIL-কে অর্থ দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইক্যুইটি শেয়ার কেনা, কনভার্টিবল বা নন-কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার অথবা ডিবেঞ্চার কেনা, সরাসরি ঋণ দেওয়া কিংবা এই পদ্ধতিগুলির সমন্বয়।
Jio Platforms-এ কার কতটা অংশীদারি?
Jio Platforms-এ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। প্রধান বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত অংশীদারি প্রায় ৩০.৯ শতাংশ। এর মধ্যে:
- Jaadhu Holdings, যা Meta Platforms-এর সঙ্গে যুক্ত, প্রায় ৯.৯৮ শতাংশ শেয়ার ধরে রেখেছে।
- Google International-এর অংশীদারি প্রায় ৭.৭৩ শতাংশ।
- এছাড়াও রয়েছে Saudi Arabia-এর Public Investment Fund, Silver Lake ও Vista Equity-র সঙ্গে যুক্ত সংস্থা, General Atlantic, KKR-backed entities এবং Abu Dhabi Investment Authority-র একটি ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকেল।
ভারতের IPO বাজারে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা
প্রায় ৩৭,৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা সফল হলে Jio Platforms-এর IPO ভারতের প্রাথমিক বাজারে নতুন নজির তৈরি করতে পারে। হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়ার ২৭,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড ভেঙে দেশের সবচেয়ে বড় IPO হয়ে উঠতে পারে জিও-র শেয়ার বিক্রি।
তবে IPO-র চূড়ান্ত তারিখ, ইস্যু প্রাইস, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তাই নবরাত্রি বা দীপাবলির সময় বাজারে আসার সম্ভাবনা আপাতত রিপোর্টের ভিত্তিতে।
সব ঠিক থাকলে অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সময়টাই ভারতীয় IPO বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ একই সময়ে জিও-র মতো বড় ইস্যুর পাশাপাশি NSE-এর বহু প্রতীক্ষিত IPO নিয়েও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
