নয়াদিল্লি: ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও (S-400)শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর দেশ আরও পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া ইতিমধ্যে এর ব্যয় সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
২০১৮ সালে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন (S-400)কেনার চুক্তি করেছিল। তার মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছে গেছে এবং পঞ্চমটি চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আসার কথা। অপারেশন সিঁদুরে এই ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর অতিরিক্ত পাঁচটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ এই প্রস্তাব অনুমোদন করে।
অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় এস-৪০০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শত্রুপক্ষের বিমান ও অন্যান্য আকাশ লক্ষ্যবস্তুকে দূর থেকেই ধ্বংস করতে সক্ষম। এই সাফল্যের পর ভারতের বিমানবাহিনী আরও বেশি সংখ্যক এস-৪০০ (S-400)চায়। রাশিয়া ভারতের দরপত্রের জবাবে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে।
নতুন চুক্তিতে কিছু ইউনিট দেশের ভিতরেই তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতীয় বেসরকারি খাত দুটি স্কোয়াড্রন তৈরি করতে পারে। বাকি তিনটি সরাসরি রাশিয়া থেকে আসবে। এতে আত্মনির্ভরশীলতার দিকেও এক ধাপ এগোনো যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনাও চলছে।এস-৪০০ দীর্ঘ পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এটি ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু আটকাতে পারে। পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তে এর মোতায়েন বাড়লে দেশের আকাশসীমা আরও সুরক্ষিত হবে। অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। শত্রুপক্ষের বিমানগুলোকে সীমান্ত থেকে অনেক দূরে রাখতে এটি সক্ষম।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ (S-400)যোগ হলে ভারতের স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে।
পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান এবং পূর্বে অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকির মুখে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ডেলিভারি শুরু হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। এস-৪০০ (S-400)চুক্তি সেই সম্পর্কেরই অংশ। আমেরিকার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থাকলেও ভারত আগের চুক্তির মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাবে ব্যয় ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চলবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির চূড়ান্ত ছাড়পত্রের পর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
