ইসলামাবাদ: ফের রক্তাক্ত পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ। বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দু’টি পৃথক হামলায় অন্তত ২৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করল ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)। এই রক্তক্ষয়ী জোড়া হামলার পরই চরম প্রত্যাঘাত হেনেছে ইসলামাবাদও। পাক সেনার দাবি, বালোচিস্তানের বিভিন্ন ডেরায় অভিযান চালিয়ে তারা অন্তত ৫০ জন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে।
ফতেহ স্কোয়াডের অতর্কিত হামলা
গত কয়েক মাস ধরেই পাক সেনার বিরুদ্ধে নিজেদের সশস্ত্র সংগ্রাম তীব্র করেছে বিএলএ। শুক্রবার বিএলএ-র তরফে দাবি করা হয়, তাদের ‘ফতেহ স্কোয়াড’ (Fateh Squad)-এর যোদ্ধারা জিয়ারত ক্রসে একটি পাক সামরিক কনভয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সেনার দু’টি গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। আরও পাঁচ জন জওয়ান আহত অবস্থায় কোনও মতে পালিয়ে বাঁচেন বলে দাবি ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর।
বিএলএ-র অন্যতম এলিট কমব্যাট ইউনিট এই ‘ফতেহ স্কোয়াড’ মূলত বালোচিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ এবং অতর্কিত হামলায় পারদর্শী। এই ইউনিটটিই ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ‘জাফর এক্সপ্রেস’ হাইজ্যাক করেছিল।
এসটিওএস-এর দ্বিতীয় হামলা
এর ঠিক পাশাপাশি, সুরাবের হাজিকায় একটি রিমোট-কন্ট্রোল চালিত বিস্ফোরণ ঘটায় বিএলএ-র স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড (STOS)। সেই হামলায় আরও সাত জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো ও পাক সেনার নীরবতা
বিএলএ-র নিজস্ব মিডিয়া আউটলেট ‘হাক্কাল’-এর তরফে ইতিমধ্যেই এই হামলার একটি সিনেমাটিক ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দাউদাউ করে জ্বলছে পাক সামরিক বাহিনীর গাড়ি, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মৃতদেহ। জ্বলন্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বিএলএ যোদ্ধারা ক্ষতিগ্রস্ত সেনার ট্রাক থেকে অস্ত্রশস্ত্র লুট করছে।
যদিও বিএলএ-র দাবি করা এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের জমানায় এটি যে সেনাবাহিনীর একটি বড়সড় নিরাপত্তা-ব্যর্থতা, তা একবাক্যে মানছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান সরকারি ভাবে এই হামলা নিয়ে মুখ না খুললেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে নিহত পাক জওয়ানদের দেহ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁদের পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
ইসলামাবাদের প্রত্যাঘাত
সেনার উপর এই ভয়াবহ হামলার জবাব দিতে দেরি করেনি ইসলামাবাদ। পাক সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা দ্রুত প্রত্যাঘাত করে বালোচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েট্টা এবং কালাত জেলার বিভিন্ন গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। মৃতেরা বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর মতো নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য বলে সেনার তরফে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই বিএলএ দাবি করেছিল যে তারা পাক সেনার বিরুদ্ধে ৩৬টি অপারেশন চালিয়ে অন্তত ৩৩ জন জওয়ানকে হত্যা করেছে। ২০২৪ সালে বিএলএ-র চালানো রক্তক্ষয়ী ‘অপারেশন হেরোফ’-এর স্মৃতিই যেন নতুন করে উসকে দিচ্ছে বালোচিস্তানের এই সাম্প্রতিকতম হিংসা। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জোরপূর্বক গুম খুনের প্রতিবাদে বালোচ গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের কাছ থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
