মুম্বই: সোনার দামে (Gold Price) হঠাৎ বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। নতুন এক সমীক্ষায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি ২০২৬ সালে আর সুদের হার বাড়াবে না বলে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করায়, তারই প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও, ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক অর্থনীতিবিদ সমীক্ষা অনুযায়ী, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩.৫০-৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হবে। শুধু সেপ্টেম্বরের বৈঠক নয়, চলতি বছরের শেষ পর্যন্তও এই হার বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।
সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কী হতে পারে?
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৩ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৬৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ, মনে করছেন আগামী সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।
তবে এই সংখ্যাটি আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অগস্টের সমীক্ষায় প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাকি অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়াতে পারে। এমনটা হলে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াবে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ ভারতের রেল পরিবহনে ১০,০২১ কোটি অনুমোদন! এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
২০২৬-এর পুরো বছরের ছবিও বদলেছে
শুধু সেপ্টেম্বরের বৈঠক নয়, পুরো ২০২৬ সালের জন্যও অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে পরিবর্তন এসেছে। আগের কয়েক মাসে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেছিলেন, বছর শেষে ফেডের সুদের হার বর্তমান স্তরেই থাকবে। কিন্তু নতুন সমীক্ষায় সেই হার নেমে এসেছে মাত্র ৫৬ শতাংশে।
অর্থাৎ, অন্তত একটি সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন এমন অর্থনীতিবিদের সংখ্যা গত মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
এর ফলে ফেডের নীতি নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। যদিও সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মত রয়েছে, বছরের শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
কেন সুদ বাড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে?
এর অন্যতম কারণ মার্কিন অর্থনীতির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য এখনও বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধিও ফেডের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে।
ফেডের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি সেই লক্ষ্যের উপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে দ্রুত সুদের হার কমানো বা দীর্ঘ সময় ধরে বর্তমান হার বজায় রাখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলা অগস্টের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় বেশি না কম, তার উপরই ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বাজারের হিসাব অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
আরও পড়ুন: যোগী নেতৃত্বে বড় সাফল্য! ১ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দিকে উত্তরপ্রদেশ
সোনার দামে কেন প্রভাব পড়ল?
সোনার দাম সাধারণত মার্কিন সুদের হার এবং ডলারের গতিবিধির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমলে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ বাড়তে পারে।
এই কারণেই ফেড ২০২৬ সালে আর সুদ বাড়াবে না, এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় সোনার বাজারে নতুন করে কেনার চাপ তৈরি হয়েছে। তার ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
তবে বাজার এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। অগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক সূচকগুলি ফেডের নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ফলে আগামী দিনে সোনার দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই এখনও বেশি, কিন্তু সেই সম্ভাবনা আগের মাসগুলোর তুলনায় দুর্বল হয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফের বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
