নয়াদিল্লি: জইশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar)ঘিরে ফের মুখোমুখি পাকিস্তান ও তালিবান। পাকিস্তান বারবার দাবি করে আসছে, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এই কুখ্যাত জঙ্গি নেতা আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে তালিবান সরকার।
আফগান বিদেশ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই। একই সঙ্গে কাবুলের তরফে ফের স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আফগান ভূখণ্ড কোনও দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
আরও দেখুনঃ নতুন শিক্ষাবর্ষে কড়া পদক্ষেপ! অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের নিচে হিজাবে না
মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলের (Masood Azhar)নজরে রয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, ২০১৯ সালের মে মাসে আজহার ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে আফগানিস্তানে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি পাকিস্তানের নাগালের বাইরে রয়েছেন বলে দাবি করে আসছে দেশটি।
কিন্তু তালিবান ক্ষমতায় আসার পরও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছেন এই দাবির কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আনতে পারেনি পাকিস্তান। বরং ২০২২ সালেও তালিবান সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আজহার আফগানিস্তানে রয়েছেন বলে তারা জানে না এবং পাকিস্তানও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি।
ভারতের কাছে অবশ্য মাসুদ আজহারের নাম বহু ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত। ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় তাঁর সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের নাম উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের অবস্থান আরও (Masood Azhar)গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আর্থিক নজরদারি সংস্থা FATF-এর কারণে। সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে FATF-এর ধূসর তালিকায় রাখা হয়েছিল। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই তালিকায় থাকার সময়ে ইসলামাবাদের ওপর জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ ছিল।
ধূসর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পাকিস্তানকে একাধিক পদক্ষেপ নিতে হয়। জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তার মধ্যে অন্যতম। ২০২১ সালে পাকিস্তান মাসুদ আজহারকেও অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির তাৎপর্য। (Masood Azhar)পাকিস্তান একদিকে দাবি করছে আজহার আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছেন, অন্যদিকে তালিবান বলছে তিনি আফগানিস্তানেই নেই। ফলে আজহারের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং FATF-এর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলিকেও ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।
