২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫০ রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য ভারতের, কিন্তু ইসরো কি আদৌ প্রস্তুত?

নয়াদিল্লি: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ৫০টি করে রকেট উৎক্ষেপণের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত মাত্র…

নয়াদিল্লি: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ৫০টি করে রকেট উৎক্ষেপণের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত মাত্র তিনটি অরবিটাল বা কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ইসরো এবং একটি বেসরকারি সংস্থা ‘স্কাইরুট’ (Skyroot)-এর। আগামী চার বছরে এই লক্ষ্য ছুঁতে গেলে পরিকাঠামো থেকে শুরু করে নীতিগত ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Advertisements

বর্তমান পরিস্থিতি ও লক্ষ্যমাত্রার ফারাক

ইসরো প্রধান ড. ভি নারায়ণ এবং ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কার যৌথ উদ্যোগে এই লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কাজ বেশ কঠিন:

   

চলতি বছরে ইসরো দুটি কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণ করেছে। ১২ জানুয়ারি পিএসএলভি-সি৬২ (PSLV-C62) মিশনের তৃতীয় ধাপে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মিশন সফল হয়নি।

এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে ‘ইওএস-০৫’ (EOS-05) উৎক্ষেপণ করে ইসরো।

Advertisements

পাশাপাশি, চলতি বছরের জুলাই মাসে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের ‘বিক্রম-১’ (Vikram-I) সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছে ভারতের মাটিতে প্রথম বেসরকারি অরবিটাল উৎক্ষেপণের ইতিহাস গড়েছে।

২. বছরে ৫০টি উৎক্ষেপণ সফল করতে কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন?

মাত্র তিন থেকে বছরে ৫০টি উৎক্ষেপণে পৌঁছাতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে অনুমতি পর্যন্ত গোটা পদ্ধতিটিকে শিল্পোন্নত স্তরে নিয়ে যেতে হবে:

উৎপাদন ও পরিকাঠামো: একটির পর একটি রকেট তৈরির পরিবর্তে একই সঙ্গে ১০-১৫টি রকেট উৎপাদনের পাইপলাইন তৈরি রাখতে হবে, যাতে একটি উৎক্ষেপণের পর অন্যটির জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে না হয়।

লঞ্চ প্যাডের ঘাটতি: বর্তমানে শ্রীহরিকোটায় দুটি প্রধান লঞ্চ প্যাড রয়েছে। সরকার তৃতীয় একটি লঞ্চ প্যাডের অনুমোদন দিয়েছে এবং তামিলনাড়ুর কুলাসেকারাপাট্টিনমে এসএলভি (SSLV) লঞ্চ কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ৫০টি উৎক্ষেপণের জন্য অন্তত চারটি লঞ্চ প্যাড এবং নিরবচ্ছিন্ন অপারেশনাল পরিকাঠামো দরকার।

অনুমতি প্রক্রিয়ার সরলীকরণ: আকাশপথ, সমুদ্রপথ, নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পদ্ধতি আরও দ্রুত ও একক উইন্ডো (Single-window) কাঠামোর আওতায় আনতে হবে, যা আমেরিকার এফএএ (FAA)-এর মতো সংস্থার আদলে করা সম্ভব।

৩. ইসরো একা নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে বেসরকারি সংস্থাগুলি

এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে শুধুমাত্র ইসরোর ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কাইরুটের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির সাফল্য প্রমাণ করেছে যে বাণিজ্যিক রকেট তৈরিতে ভারত এখন অনেকটাই এগিয়ে। আগামী দিনে ইসরো উন্নত প্রযুক্তির গবেষণায় মনোযোগ দেবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রকেট উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ পরিচালনা করবে, এই যৌথ মডেলেই সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে ভারত।

যোগী রাজ্যে বড় অভিযান! পুলিশের জালে ১২ মোল্লার হানিট্র্যাপ গ্যাং

তেজস Mk2-এর ইঞ্জিন তৈরিতে বড় অগ্রগতি! GE-র সঙ্গে প্রযুক্তিগত জট কাটাল HAL

Advertisements