নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামাজিক চাপে মাদকাসক্তি লুকিয়ে রাখবেন না। বরং দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন এবং সন্তানদের সঙ্গে সবসময় খোলা যোগাযোগ বজায় রাখুন যাতে সমস্যা বাড়ার আগেই তা ধরা যায়।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Modi )মাদকের ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মাদকাসক্তি কোনো ছোট বিষয় নয়। এটি একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সামাজিক লজ্জা বা চাপের কারণে অনেকে সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। ফলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করুন।”
আরও দেখুনঃ ট্রেনের ধাক্কায় হাতিমৃত্যু বন্ধ করতে মোদী সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প ‘গজরাজ’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদকাসক্তিকে রোগ হিসেবে দেখতে হবে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেছেন, সন্তানদের সঙ্গে খোলা যোগাযোগ রাখুন। তাদের সমস্যা, চাপ বা কষ্টের কথা শুনুন। অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে বা কৌতূহলবশত তরুণরা মাদকের জগতে পা বাড়ায়। যদি বাড়িতে বিশ্বাসের পরিবেশ থাকে, তাহলে তারা নিজেরাই সাহায্য চাইতে পারবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সাপোর্ট দিন।” মোদী (PM Modi )অভিভাবকদের কয়েকটি সতর্কতামূলক লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। হঠাৎ করে সন্তানের আচরণের পরিবর্তন, একা থাকতে চাওয়া, রাত করে বাড়ি ফেরা, অপ্রয়োজনে টাকা চাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা এগুলো মাদকাসক্তির লক্ষণ হতে পারে। এসব দেখলে অবহেলা না করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, “শুধু বকাঝকা নয়, সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”প্রধানমন্ত্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকের ক্ষতি নিয়ে নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আলোচনা, ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ।
আরও দেখুনঃ ৬৫০০০ মাইনে- আমেরিকার খরচ বহন করতেন কি করে? অভিযোগ অভিজিতের বাবার বিরুদ্ধে
তাদের যদি মাদকের নেশায় হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়, তাহলে পুরো জাতির ক্ষতি।ভারতে মাদকের সমস্যা ক্রমশ গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে নেশার ওষুধ ও সিন্থেটিক ড্রাগসের ছড়াছড়ি বেড়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, শিক্ষা নষ্ট হচ্ছে, অপরাধ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশজুড়ে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) এবং রাজ্য পুলিশ মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে।
