দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল নিষিদ্ধ রাজ্যে? শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে জল্পনা উস্কালেন শুভেন্দু

কলকাতা: রাত দেড়টা-দু’টোর আগে ঘুমোচ্ছে না বাচ্চারা, বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়তেই আড়ালে চলছে স্মার্টফোনের ব্যবহার! পড়ুয়াদের এই মারাত্মক আসক্তি রুখতে এ বার কি গুজরাতের মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও…

কলকাতা: রাত দেড়টা-দু’টোর আগে ঘুমোচ্ছে না বাচ্চারা, বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়তেই আড়ালে চলছে স্মার্টফোনের ব্যবহার! পড়ুয়াদের এই মারাত্মক আসক্তি রুখতে এ বার কি গুজরাতের মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হতে চলেছে? শনিবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এমনই এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisements

‘ভোট কমে যেতে পারে আমার’

শনিবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে নিজের ছাত্রাবস্থার নানা স্মৃতিচারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তৃতা ও বিতর্কে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েই বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের মোবাইল-আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের উপর মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কুপ্রভাব পড়ছে। বাচ্চারা রাত দেড়টা-দু’টোর আগে ঘুমোতে যায় না, সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটছে। বাবা-মা শুয়ে পড়েছে, আড়াল হতেই মোবাইল ঘাঁটা আরম্ভ করে দিচ্ছে।”

   

এই আসক্তি কাটাতে রাজ্য সরকার যে বড়সড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুজরাতে দেখুন, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে হাত দিতে দেওয়া হয় না। এই সমস্ত সংস্কার যদি না করেন, তবে শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনও মানেই থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্বীকার করে নেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁর কথায়, “এটা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত, এ সব করলে আমার ভোট কমে যেতে পারে।”

পথপ্রদর্শক কি গুজরাত মডেল?

মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে আসা গুজরাতে বর্তমানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। কলেজের পড়ুয়ারা মোবাইল রাখতে পারলেও, ক্লাস চলাকালীন তা ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি, শিক্ষকরাও ক্লাস নেওয়ার সময়ে মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না।

Advertisements

এর পাশাপাশি, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখতে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইজরি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন গুজরাত সরকার। শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তির শিক্ষাগত, মানসিক এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে চিলড্রেনস রিসার্চ ইউনিভার্সিটিকে দিয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষাও করানো হয়। যদিও সেই নির্দেশিকা এখনও চূড়ান্ত স্তরে বাস্তবায়িত হয়নি।

কোভিড-পরবর্তী আসক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ

মনোবিদ ও শিক্ষাবিদদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের বাধ্যবাধকতা থেকেই শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোনের উপর নির্ভরতা মারাত্মক ভাবে বেড়েছে। যা এখন রিলস বা অনলাইন গেমের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যেও এই প্রবণতা বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি শিশুদের এই ‘স্ক্রিন টাইম’ (Screen Time) কমানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তাঁর মতে, ছোটদের ডিজিটাল ডিভাইসের বদলে খেলাধুলা, শারীরিক কসরত এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে। তবেই মোবাইলের এই নেশা বা আসক্তি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শনিবারের বক্তব্যের পর, শিক্ষা মহলের একাংশের ধারণা, পড়ুয়াদের সুস্থ শৈশব ফেরাতে খুব শিগগিরই হয়তো কোনও কড়া নির্দেশিকা আনতে চলেছে নবান্ন।

বালোচিস্তানে জোড়া হামলায় নিহত ২৫ পাক সেনা! প্রত্যাঘাতে খতম ৫০ জঙ্গি

নিরাপত্তা বাড়াতে বাসের কন্ডাক্টরদের বডি ক্যাম-হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ পরিবহন দফতরের

Advertisements