কলকাতা: বাংলার গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট (BharatNet) পরিষেবা সম্প্রসারণে এবার গতি আসতে পারে। রাজ্য সরকার টেলিকমিউনিকেশনস রাইট অব ওয়ে বা আরও নিয়ম, ২০২৪-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করায় টেলিকম পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত এগোনোর পথ খুলেছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় গ্রামীণ এলাকায় টেলিকম পরিকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাজের প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে। এর সঙ্গে অ্যামেন্ডেড ভারতনেট প্রোগ্রাম বা সংশোধিত ভারতনেট প্রকল্পের বাস্তবায়নেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩,৩৪০ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২,৭৬৭টি সংযুক্ত
রাজ্যসভায় সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী পেমমাসানি চন্দ্রশেখর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৫ মে, ২০২৬ টেলিকমিউনিকেশনস রাইট অব ওয়ে নিয়ম, ২০২৪ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। রাজ্যের মোট ৩,৩৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২,৭৬৭টি ইতিমধ্যেই ভারতনেটের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ, রাজ্যের গ্রামীণ টেলিকম পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ভারতনেটের আওতায় এসেছে। এবার বাকি এলাকাগুলিতে সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৈরির দিকে জোর দেওয়া হবে।

কীভাবে কাজ করবে সংশোধিত ভারতনেট প্রকল্প?
কেন্দ্রের সংশোধিত ভারতনেট প্রকল্প বা এবিপি-তে নতুন পদ্ধতিতে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি ডিজাইন, বিল্ড, অপারেট, মেনটেন বা ডিবিওএম মডেলের অধীনে অনুমোদিত হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় বর্তমানে থাকা ভারতনেট নেটওয়ার্ককে আরও উন্নত করা হবে। পাশাপাশি, গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরের যেসব গ্রামে ব্রডব্যান্ড সংযোগের চাহিদা রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার ফলে শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতকেন্দ্রিক সংযোগ নয়, আরও বেশি সংখ্যক গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে নির্মাণ পর্যায়ের সময়সীমা তিন বছর। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে নির্ধারিত পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সময়সীমার মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পুরনো ভারতনেট পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন গ্রামে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হবে।
রাইট অব ওয়ে নিয়মে কেন গতি আসতে পারে?
টেলিকম পরিকাঠামো তৈরির সময় রাস্তা, সরকারি জমি বা অন্যান্য জায়গার উপর দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসাতে বিভিন্ন অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেরি হলে প্রকল্পের কাজও পিছিয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাইট অব ওয়ে নিয়ম, ২০২৪ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের এই নিয়ম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশনস দফতর ভারতনেটকে এই নিয়মের অধীনে বিশেষ প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ বাংলায় কী সুবিধা হতে পারে?
সমস্ত গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পৌঁছলে গ্রামীণ বাংলায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং, সরকারি পরিষেবা এবং অনলাইন ব্যবসার মতো ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বা স্থায়ী ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এখনও সীমিত, সেখানে অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক সংযোগ নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে তিন বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কতটা দ্রুত পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাজের গতি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং মাঠপর্যায়ের পরিকাঠামো তৈরির উপর। কেন্দ্রের দাবি, রাইট অব ওয়ে নিয়মের বিজ্ঞপ্তি এবং ভারতনেটকে বিশেষ প্রকল্পের মর্যাদা দেওয়ার ফলে এই কাজ আরও দ্রুত এগোবে।
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
