হাবাসের হাত ধরে এসিএল টু-এর মূলপর্বে East Bengal, নতুন ইতিহাস লাল-হলুদের

সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: ইতিহাসের পাতায় আরও একবার ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এবারের মরসুমের শুরুটা ভালো ছিল না কলকাতা ময়দানের এই প্রধানের। ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই…

East Bengal vs Al-Arabi LIVE Score Updates

সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: ইতিহাসের পাতায় আরও একবার ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এবারের মরসুমের শুরুটা ভালো ছিল না কলকাতা ময়দানের এই প্রধানের। ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই পরাজিত হতে হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে। তারপর যদিও ঘুরে দাঁড়াতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। তবে এসবের মাঝেই সকলকে চিন্তায় রেখেছিল এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টায়ার টুয়ের প্রাথমিক ম্যাচ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ফুটবলারদের দলে সই করানো হলেও শহরে এসে পৌঁছাতে সময় লেগেছে অনেকটাই। তাছাড়া এখনো পর্যন্ত আসতে পারেননি দলের তারকা স্ট্রাইকার। পাশাপাশি চোখের কারণে অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন নাচোর মতো ডিফেন্ডার।

Advertisements

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, কলকাতার বুকে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল হাবাস ব্রিগেডের কাছে। তবুও শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল মশাল ব্রিগেড। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে ৪-১ ব্যবধানে তাঁরা পরাজিত করল কুয়েতের চ্যাম্পিয়ন দল আল আরবি ফুটবল ক্লাবকে। এদিন গোল পান যথাক্রমে জয় গুপ্তা, মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালহানসাঙ্গা এবং রোহিত দানু। অন্যদিকে, পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আনোয়া ইওয়ালা। যদিও শেষ পর্যন্ত তা বজায় থাকেনি। দ্বিতীয়ার্ধে সন্দীপ মান্ডির করা ভুল থেকে যখন দল পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে, তখন কেইবা জানত যে এভাবেই ফিরে আসবে দলটা। কিন্তু ক্লাবটা যে ইস্টবেঙ্গল। তাই সহজে হার না মানার লড়াই রয়েছে মজ্জায় মজ্জায়। ৯০ মিনিটে জয় গুপ্তার হেডে নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে দল।

   

গোলের সঙ্গে সঙ্গে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। ১-০ থেকে ১-১। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।নকআউট ম্যাচের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা সমতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হয়। অতিরিক্ত সময়েও সমতা থাকলে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে জয়ী দল নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু ইস্টবেঙ্গলকে আর পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত যেতে হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। মহম্মদ বাসিম রশিদ দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে দেন।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।আল-আরাবি তখন সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গল পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। শেষ মুহূর্তে আরও দুই গোল, ৪-১ জয়। এমন নাটকীয় কামব্যাকই শেষ পর্যন্ত লাল-হলুদকে এশিয়ার এই ক্লাব প্রতিযোগিতার মূল পর্বে পৌঁছে দেয়।

Advertisements
Advertisements