কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে। (Madrasa Education)সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর আগের মতো চলতে দেওয়া হবে না। সরকারের বিস্বস্ত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভাবনায় এখন আর মাদ্রাসা শিক্ষা বলে আলাদা কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলায় থাকবে না। বাংলায় এবার থেকে এক ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থাই থাকবে।
এক বিধান, এক নিশানএই স্লোগানের মাধ্যমে সরকার যে বার্তা দিতে চাইছে, তা হলো রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একই কাঠামোর আওতায় আনা।গত বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ধারায় চলেছে। একদিকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্বীকৃত মাদ্রাসা, যেখানে সাধারণ বিষয়ের সঙ্গে আরবি ও ধর্মতত্ত্ব পড়ানো হয়। অন্যদিকে খারিজি বা অস্বীকৃত মাদ্রাসা, যাদের অনেকেরই সঠিক নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম বা তহবিলের হিসাব স্পষ্ট নয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই এই ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু করেছে।
আরও দেখুনঃ ৯ দিন মাটির তলায়! নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২, ভেসে আসছে আরও আর্তনাদ
জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব মাদ্রাসার (Madrasa Education)তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে। উদ্দেশ্য হল কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে, কোনটি নয় তা স্পষ্ট করা।সরকারের যুক্তি সহজ। জনগণ একটা নির্দিষ্ট ভাবনা নিয়ে এই সরকারকে ভোট দিয়েছে। সেই ভাবনার মূল কথা হল শিক্ষায় কোনো বিভাজন থাকবে না। সব শিশুকে একই মানের শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কোনো পেশায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে।
আলাদা ব্যবস্থা রাখলে একদল ছেলেমেয়ে মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে পড়ে। তাই আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষার অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাজেটে সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা বিভাগের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, টাকা এখন ধর্মভিত্তিক ভাতার বদলে মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও আধুনিক শিক্ষায় খরচ হবে।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে সরকারপন্থীরা বলছেন, এটা কোনো সম্প্রদায়বিরোধী পদক্ষেপ নয়। বরং মুসলিম সমাজের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করারই উদ্যোগ।
আরও দেখুনঃ ‘মা’-কে ‘আম্মা’, আকাশকে…..,পরিকল্পিত ভাষা বিকৃতি করেছিল তৃণমূল! তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে (Madrasa Education)ইতিমধ্যেই অনেক হিন্দু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে এবং সেখানকার পাঠ্যক্রম সাধারণ স্কুলের সঙ্গে প্রায় মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন যে, এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বহু ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে।
বাস্তবে রাজ্যে প্রায় ছয়শোর বেশি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়ে। এছাড়া অসংখ্য অস্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। নতুন সরকার সেই হিসাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি সব স্বীকৃত মাদ্রাসায় সকালের প্রার্থনায় বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের মতে, এটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠারই অংশ।
