‘মৃত্যুভয় নেই, বিচার এড়াতে দেশ ছাড়িনি’! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার

নয়াদিল্লি: এক দিকে মাথার উপর ঝুলছে ফাঁসির সাজা, অন্য দিকে দেশে ফিরলেই গ্রেফতারি বা চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা। এই প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড়…

নয়াদিল্লি: এক দিকে মাথার উপর ঝুলছে ফাঁসির সাজা, অন্য দিকে দেশে ফিরলেই গ্রেফতারি বা চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা। এই প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। শুধু তাই নয়, দেশে ফিরে তিনি হাসিমুখে আদালতের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর দাবি, এই ফেরা ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, বরং দেশের এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।

Advertisements

‘পূর্বনির্ধারিত রায় মানব না’

প্রায় দু’বছর ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন হাসিনা। বর্তমানে তাঁর দল আওয়ামি লিগ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। দলের বহু নেতা-কর্মী দেশছাড়া, অনেকেই জেলে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা বলেন, ‘‘আমি জানি দেশে ফিরলে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এমনকী আমাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। কিন্তু আমি আমার দেশকে অনাথ করে এভাবে বিদেশে পড়ে থাকতে পারি না। আমি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ। বিচারের নামে কোনও পূর্বনির্ধারিত রায় বা রাজনৈতিক প্রহসন আমি মানব না।’’

   

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও ইউনূস প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন প্রতিটি মৃত্যুর তদন্তের জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম। কিন্তু অগস্টের পর এই বেআইনি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সেই কমিশন বন্ধ করে দেয়। তারা প্রকৃত সত্য সামনে আসতে দেয়নি।’’

হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা আমার দলকে নিষিদ্ধ করেছে, হাজার হাজার মামলা দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থাকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনও আপসের প্রশ্নই ওঠে না। আমি চাই, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া চলুক। আমাকে আদালতে নিজের স্বপক্ষে তথ্য-প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দেওয়া হোক।’’

Advertisements

ভারতের কাছে কী প্রত্যাশা?

প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে একাধিকবার ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘‘ভারত একটি সার্বভৌম দেশ। আমি ভারত সরকারের হয়ে কিছু বলব না। তারা তাদের নিজস্ব আইনি পথেই এই প্রত্যর্পণ ইস্যু সামলাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে আমি চিরকাল সম্মান করে এসেছি। তবে আমার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব রাজনৈতিক এবং নৈতিক সিদ্ধান্ত। বন্ধু দেশ হলেও আমি চিরকাল ভারতের মাটিতে পড়ে থাকতে পারি না।’’ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁর বার্তা, বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে নজর রাখুক বিশ্ব।

আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী?

বাংলাদেশে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ। এই প্রসঙ্গে দলের সুপ্রিমো বলেন, ‘‘শুধু কাগজে-কলমে নোটিস জারি করে একটা দলকে নিষিদ্ধ করা যায়, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় থেকে তাকে মুছে ফেলা যায় না। আওয়ামি লিগ এই দেশের শিকড়ে রয়েছে। যদি বর্তমান সরকার মনে করে যে মানুষ আওয়ামি লিগকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা নির্বাচন করুক। ব্যালট বক্সে আমাদের হারিয়ে দিক। সেটাই তো গণতন্ত্র। কিন্তু ভয় দেখিয়ে, মামলা দিয়ে একটা আদর্শকে আটকে রাখা যায় না।’’

সব মিলিয়ে, ফাঁসির সাজার তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণা যে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

৯ দিন মাটির তলায়! নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২, ভেসে আসছে আরও আর্তনাদ

‘মা’-কে ‘আম্মা’, আকাশকে…..,পরিকল্পিত ভাষা বিকৃতি করেছিল তৃণমূল! তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

Advertisements