কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ৪,১৩৩টি স্কুলে একজনও ছাত্র-ছাত্রী নেই।(West Bengal) অথচ সেখানে শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলের কথা ভাবছে। এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে।শূন্য তালিকাভুক্তির এই স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছে। শিক্ষক থাকলেও ছাত্র নেই।
এমন অবস্থা অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখা যায় না বলে মনে করছে প্রশাসন। (West Bengal)তাই স্কুল ভবনগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই পরিকল্পনা চলছে। পিপিপি মডেলে চালানোই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সব ৪,১৩৩টি স্কুলেই এই মডেল প্রয়োগ হবে না।জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলোর পরিকাঠামো, অবস্থান ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য। কমিটি প্রস্তাব পাঠাবে কোন ভবন কীভাবে ব্যবহার করা যায়।
কলকাতা পুরসভাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শহরের শূন্য তালিকাভুক্ত স্কুলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে।যেসব স্কুলে পিপিপি মডেল প্রযোজ্য হবে না, সেগুলোকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। শিক্ষা দপ্তরের অগ্রাধিকার হলো যত বেশি সম্ভব স্কুলকে পিপিপি-র আওতায় আনা। সেখানকার শিক্ষকদের কাছাকাছি এমন স্কুলে বদলি করা হতে পারে, যেখানে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত কম।
আরও দেখুনঃ শাহের বঙ্গ সফরে বাদ মুসলিম আধিকারিকরা! অভিযোগ করে রাষ্ট্রসংঘে চিঠি মহুয়ার
এতে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে। (West Bengal)কেন্দ্রীয় সরকারের ইউডিআইএসই-প্লাস রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশে মোট ৫,৬৬৩টি শূন্য তালিকাভুক্ত স্কুলের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই পশ্চিমবঙ্গে। অন্যদিকে রাজ্যে ৬,৭৬৯টি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন, অথচ সেখানে দুই লাখের বেশি ছাত্র পড়াশোনা করে। এই বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।গ্রামীণ এলাকায় অনেক স্কুলে ছাত্র কমে যাওয়ার পেছনে জনসংখ্যা হ্রাস, অভিবাসন ও বেসরকারি স্কুলের আকর্ষণ কাজ করছে।
শহরাঞ্চলেও কিছু স্কুলে তালিকাভুক্তি শূন্য হয়ে গেছে।(West Bengal) শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের জটিলতাও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। সরকার এখন শিক্ষক যৌক্তিকীকরণের কাজ শুরু করেছে।পিপিপি মডেল যদি সফল হয়, তাহলে অব্যবহৃত ভবনগুলো নতুন করে কাজে লাগবে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বা দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।
শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকাঠামোর সদ্ব্যবহারও নিশ্চিত হবে। তবে বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংকট শুধু সংখ্যার খেলা নয়। হাজার হাজার শিক্ষকের কর্মস্থল শূন্য হয়ে পড়েছে, অথচ অন্য স্কুলে শিক্ষক সংকট চলছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পারলে রাজ্যের শিক্ষা চিত্র পাল্টে যেতে পারে। এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত পদক্ষেপ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
